শিরোনামঃ
Logo রাঙামাটিতে কোতয়ালী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার ৭ Logo রাজপথের পরীক্ষিত লড়াই থেকে ভোটের ময়দানে: ভিপি শাহীনের জন্মদিনে নেতাকর্মীদের উল্লাস Logo খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে বিএনপির প্রস্তুতি সভায় হামলা: আহত ৪, চমেক হাসপাতালে প্রেরিত ৩ Logo টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান: গুলিবিনিময়ে সেনাসদস্য শহীদ, জিম্মি থেকে মুক্ত ৫৭ Logo মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: চিকিৎসা ও ওষুধ পেলেন দুর্গম এলাকার শতাধিক অ-বাঙালি পাহাড়ি Logo মহালছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর যাত্রা শুরু Logo কাপ্তাইয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’: ৫০৩ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধন Logo হারানো ৫০টির বেশি ফোন উদ্ধার করে মালিকদের হাসিমুখ ফিরিয়ে দিল রাঙ্গামাটি পুলিশ Logo কাপ্তাই চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন: প্রথম দিনেই ফরম নিলেন ১ প্রার্থী, চাঞ্চল্য ভোটারদের মাঝে Logo রামগড়ে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির রশিদসহ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক
মধু মঙ্গল পাড়ায় থমথমে পরিস্থিতি; নিহতরা জেএসএস ছেড়ে ইউপিডিএফ-এ যোগ দেওয়াতেই কি এই নৃশংসতা বাড়ছে রহস্য।

পানছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএস বন্দুকযুদ্ধ

পাহাড়ের বুক চিরে আবারও ভেসে এলো মুহুর্মুহু গুলির শব্দ। আধিপত্য বিস্তার নাকি দলত্যাগের চরম প্রতিশোধ—এই প্রশ্নে এখন তোলপাড় খাগড়াছড়ির পানছড়ি। আজ সোমবার (৬ জুলাই) আনুমানিক সকাল সাড়ে ১১টা থেকে জেলার পানছড়ি উপজেলার ২নং চেঙ্গী ইউনিয়নের মধু মঙ্গল পাড়া এলাকায় আঞ্চলিক দুই সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) এবং জেএসএস (সন্তু লারমা-মূল) দলের মধ্যে শুরু হয় থেমে থেমে রক্তক্ষয়ী গুলি বিনিময়।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের ব্রাশফায়ারে ঘটনাস্থলেই ৩ জন যুবক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ২ জন যুবককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে সশস্ত্র গ্রুপটি।

হত্যাকাণ্ড এবং অপহরণের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে দুটি ভিন্ন ও চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে আসছে: প্রথম দাবি (দলত্যাগের তাৎক্ষণিক শাস্তি):একটি সূত্রের দাবি, হতাহত ও অপহৃত এই ৫ যুবক মূলত জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের সশস্ত্র সদস্য ছিলেন। তারা জেএসএস ছেড়ে ইউপিডিএফ (মূল) দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দলত্যাগ করার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে জেএসএস-এর মূল দলের সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায়, ৩ জনকে হত্যা করে এবং ২ জনকে তুলে নিয়ে যায়।

দ্বিতীয় দাবি (পূর্ব শত্রুতার জের):অন্য একটি সূত্রের দাবি, এই যুবকেরা বেশ কিছুদিন আগেই জেএসএস ত্যাগ করে ইউপিডিএফ-এ যোগ দিয়েছিলেন। দলত্যাগের পর থেকেই জেএসএস-এর সশস্ত্র উইং তাদের হন্যে হয়ে খুঁজছিল। আজ মধু মঙ্গল পাড়ায় তাদের বাগে পেয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের নৃশংস বহিঃপ্রকাশ ঘটায় জেএসএস।ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিহত ও অপহৃতদের চূড়ান্ত রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করতে আরও তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাহাড়ের এই রক্তাক্ত আধিপত্যের লড়াই এবং দলত্যাগের নির্মম পরিণতিতে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে চরম নিরাপত্তা হীনতা দেখা দিয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাঙামাটিতে কোতয়ালী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার ৭

মধু মঙ্গল পাড়ায় থমথমে পরিস্থিতি; নিহতরা জেএসএস ছেড়ে ইউপিডিএফ-এ যোগ দেওয়াতেই কি এই নৃশংসতা বাড়ছে রহস্য।

পানছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএস বন্দুকযুদ্ধ

প্রকাশিত: ০৮:০১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

পাহাড়ের বুক চিরে আবারও ভেসে এলো মুহুর্মুহু গুলির শব্দ। আধিপত্য বিস্তার নাকি দলত্যাগের চরম প্রতিশোধ—এই প্রশ্নে এখন তোলপাড় খাগড়াছড়ির পানছড়ি। আজ সোমবার (৬ জুলাই) আনুমানিক সকাল সাড়ে ১১টা থেকে জেলার পানছড়ি উপজেলার ২নং চেঙ্গী ইউনিয়নের মধু মঙ্গল পাড়া এলাকায় আঞ্চলিক দুই সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) এবং জেএসএস (সন্তু লারমা-মূল) দলের মধ্যে শুরু হয় থেমে থেমে রক্তক্ষয়ী গুলি বিনিময়।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের ব্রাশফায়ারে ঘটনাস্থলেই ৩ জন যুবক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ২ জন যুবককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে সশস্ত্র গ্রুপটি।

হত্যাকাণ্ড এবং অপহরণের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে দুটি ভিন্ন ও চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে আসছে: প্রথম দাবি (দলত্যাগের তাৎক্ষণিক শাস্তি):একটি সূত্রের দাবি, হতাহত ও অপহৃত এই ৫ যুবক মূলত জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের সশস্ত্র সদস্য ছিলেন। তারা জেএসএস ছেড়ে ইউপিডিএফ (মূল) দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দলত্যাগ করার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে জেএসএস-এর মূল দলের সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায়, ৩ জনকে হত্যা করে এবং ২ জনকে তুলে নিয়ে যায়।

দ্বিতীয় দাবি (পূর্ব শত্রুতার জের):অন্য একটি সূত্রের দাবি, এই যুবকেরা বেশ কিছুদিন আগেই জেএসএস ত্যাগ করে ইউপিডিএফ-এ যোগ দিয়েছিলেন। দলত্যাগের পর থেকেই জেএসএস-এর সশস্ত্র উইং তাদের হন্যে হয়ে খুঁজছিল। আজ মধু মঙ্গল পাড়ায় তাদের বাগে পেয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের নৃশংস বহিঃপ্রকাশ ঘটায় জেএসএস।ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিহত ও অপহৃতদের চূড়ান্ত রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করতে আরও তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাহাড়ের এই রক্তাক্ত আধিপত্যের লড়াই এবং দলত্যাগের নির্মম পরিণতিতে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে চরম নিরাপত্তা হীনতা দেখা দিয়েছে।