তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধা এবং ৭ শতাংশ কোটা বজায় রেখে দ্রুত স্থগিত হওয়া প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করার জোরালো দাবি জানিয়েছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রাঙ্গামাটির বনরূপাস্থ ‘আয়োজন রেস্তোরাঁয়’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ৬৭ শতাংশ উপজাতি ও ৩৩ শতাংশ বাঙালি কোটা প্রয়োগ করা হচ্ছিল। এটি সরাসরি যোগ্যতাকে উপেক্ষা করার শামিল এবং সংবিধানের ন্যায়বিচারের চেতনার চরম পরিপন্থী।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৩ জুলাই ২০২৪-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সারা দেশের সরকারি চাকরিতে ৯৩% মেধা ও ৭% কোটা কার্যকর করা হলেও পার্বত্য জেলা পরিষদ তা বাস্তবায়ন করেনি। পরবর্তীতে ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বৈষম্যমূলক কোটা বহাল রেখে নিয়োগ পরীক্ষা নিতে গেলে আন্দোলনে বাধ্য হয় জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ এবং পরীক্ষা স্থগিত করে আইনগত ব্যাখ্যার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠায়।
পরবর্তীতে গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেয়া মতামত জেলা পরিষদগুলোকে অবহিত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়:জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এ নির্দিষ্ট কোনো শতকরা কোটার আইনি বিধান নেই। কেবল সমযোগ্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে স্থানীয় উপজাতীয় প্রার্থীর অগ্রাধিকারের কথা বলা হলেও, সেই অগ্রাধিকার কোনোভাবেই ‘মেধা’কে অতিক্রম করতে পারে না। ফলে জাতীয় প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৯৩% মেধাভিত্তিক নিয়োগই চূড়ান্ত।
আইনের এই ব্যাখ্যায় প্রমাণিত হয়েছে যে এতদিন পার্বত্য অঞ্চলে চলে আসা ৬৭-৩৩% কোটা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আইনি ভিত্তিহীন ছিল বলে দাবি করেন নেতৃবৃন্দ। কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের ৬ দফা দাবি: সংবাদ সম্মেলন থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ফেরাতে ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়:
1.আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ৯৩% মেধা ও ৭% কোটা বজায় রেখে দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণ ও নিয়োগ নিশ্চিতকরণ।
2. কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা।
3. স্বচ্ছতার স্বার্থে জেলা প্রশাসকের (DC) সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রশ্ন সংরক্ষণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন।
4. স্বচ্ছ উপজেলাভিত্তিক কোটার বিন্যাস সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা।
5. নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
6. চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
সংবাদ সম্মেলনে কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জনি, সদস্য সচিব মো. নুরুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলে রাব্বী, মো. ইব্রাহিম রুবেলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের এত সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার পরেও যদি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ টালবাহানা বা কালক্ষেপণ করার চেষ্টা করে, তবে পাহাড়ের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।


















