পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় জনপদে বিজু, বৈসাবি ও সাংগ্রাইয়ের মতো উৎসবের আমেজের মাঝেই আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে রাঙিয়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ির সিন্দুকছড়ি জোনের (গুইমারা ও মানিকছড়ি এলাকা) পক্ষ থেকে বুধবার ১৩০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উৎসবের ধারাকে সমুন্নত রাখতে মাসিক মানবতা ও সমাজকল্যাণ কর্মসূচির আওতায় এই উপহার প্রদান করা হয়। উপহারের তালিকায় ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং নতুন পোশাক হিসেবে শাড়ি, লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুর্গম জনপদে এই উপহার পৌঁছে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
শুধু ঈদ উপহারই নয়, জোন সদর দপ্তর থেকে সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও বড় ধরনের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিন একটি মন্দিরে আয়োজিত মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠানের জন্য ৫,০০০ টাকা নগদ অনুদান প্রদান করা হয়। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য নগদ ৫,০০০ টাকা ও ঢেউ টিন এবং এলাকার অন্যান্য হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে নগদ ২৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
অত্র এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়নে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ৩০,০০০ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে উৎসাহিত করতে ৫টি স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়, যা স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিন্দুকছড়ি জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই তাদের মূল লক্ষ্য। বৌদ্ধ, হিন্দু, খ্রিস্টান ও মুসলিম—সকল ধর্মের মানুষের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করতেই এই প্রচেষ্টা। বিজু বা ঈদ, প্রতিটি উৎসবই যেন সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে, সেই লক্ষ্যেই সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় সুধী মহলের মতে, সেনাবাহিনীর এই মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















