শিরোনামঃ
Logo পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার বার্তা: রাঙ্গামাটিতে জেলা পুলিশের মাস্টার ও কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত Logo রাঙামাটি বায়তুশ শরফ মাদ্রাসায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উদযাপিত: নতুন প্রজন্মকে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান Logo সিন্দুকছড়ি জোনে মাসিক মতবিনিময় সভা: সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও অপপ্রচার রোধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান Logo সামরিক বাহিনীর মানবিক হাত: মানিকছড়ির পাহাড় ঘেঁষা দুর্গম জনপদে আশার আলো Logo মহালছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ‘আশিকা’: খাদ্য, শিক্ষা ও আশ্রয়ণ উপকরণ পেয়ে মুখে হাসির ঝিলিক Logo মহালছড়িতে ৩৫০ কৃষকের ঘরে আশার আলো: বিনামূল্যে মিলল সার ও বীজ Logo সেতু ঝুঁকিতে ফেলে মাটি সাবাড়! হাতেনাতে ধরে জরিমানা আদায় করলো ভ্রাম্যমাণ আদালত Logo মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য: উদ্ধার বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও ভারতীয় রুপি Logo আইনি ব্যাখ্যার পর ৯৩% মেধা ও ৭% কোটায় দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দাবি Logo রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, বাবা-মা আটক
পুরনো গ্লানি মুছে নতুন ভোরে জেগেছে পাহাড় উৎসবের রঙে মেতেছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো

পাহাড়ে তারুণ্যের কলরব মহালছড়িতে ফুল ভাসিয়ে বর্ণিল বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু শুরু

ভোরের সূর্যের আলো ফুটতেই খাগড়াছড়ির মহালছড়ির জনপদগুলো হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা লেকের জলে ফুল ভাসিয়ে চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘ফুলবিজু’র মধ্য দিয়ে আজ রবিবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল উৎসব। শুধু চাকমা নয়, মারমা ও ত্রিপুরা পল্লীগুলোতেও এখন বৈসু আর সাংগ্রাইয়ের মহোৎসব।

রবিবার সকাল ৮টায় মনাটেক কজমা ক্লাব ও যাদুগানালা মৎস্যচাষ বহুমুখী সমবায় সমিতির উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়। র‍্যালিটি এলাকার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে মুবাছড়ি ইউনিয়নের মনাটেক গ্রামের যাদুগানালা মৎস্য লেকের তীরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে কয়েকশ নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন। লেকের শান্ত জলে ফুল ভাসিয়ে নতুন বছরের মঙ্গল প্রার্থনা করেন সকল বয়সী মানুষ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা বলেন, “বিজু, সাংগ্রাই বা বৈসু—নাম ভিন্ন হলেও এর মূল সুর এক। আমরা ফুলবিজু, মূলবিজু ও গোজ্যপজ্য—এই তিন দিনে ভাগ করে উৎসবটি পালন করি। তবে এই উৎসবের প্রাণ হলো ‘পাজন’। ৩৬ রকমের সবজি দিয়ে তৈরি এই খাবার ছাড়া উৎসবটি কল্পনাই করা যায় না।

পার্বত্য চট্টগ্রামের এই উৎসবের কোনো নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক সূচনালগ্ন জানা না গেলেও যুগ যুগ ধরে এটি পাহাড়ি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে টিকে আছে। উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি জনপদগুলোতে তৈরি হয়েছে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ। পূর্বের সকল হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে নতুন বছরে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির আশায় প্রার্থনা করছেন সবাই। শুধু ফুল ভাসানোই নয়, মারমা ও ত্রিপুরা পল্লীগুলোতে ঐতিহ্যবাহী নাচে-গানে এলাকা এখন সরগরম।

জনপ্রিয় সংবাদ

পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার বার্তা: রাঙ্গামাটিতে জেলা পুলিশের মাস্টার ও কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত

পুরনো গ্লানি মুছে নতুন ভোরে জেগেছে পাহাড় উৎসবের রঙে মেতেছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো

পাহাড়ে তারুণ্যের কলরব মহালছড়িতে ফুল ভাসিয়ে বর্ণিল বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু শুরু

প্রকাশিত: ০১:০৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ভোরের সূর্যের আলো ফুটতেই খাগড়াছড়ির মহালছড়ির জনপদগুলো হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা লেকের জলে ফুল ভাসিয়ে চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘ফুলবিজু’র মধ্য দিয়ে আজ রবিবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল উৎসব। শুধু চাকমা নয়, মারমা ও ত্রিপুরা পল্লীগুলোতেও এখন বৈসু আর সাংগ্রাইয়ের মহোৎসব।

রবিবার সকাল ৮টায় মনাটেক কজমা ক্লাব ও যাদুগানালা মৎস্যচাষ বহুমুখী সমবায় সমিতির উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়। র‍্যালিটি এলাকার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে মুবাছড়ি ইউনিয়নের মনাটেক গ্রামের যাদুগানালা মৎস্য লেকের তীরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে কয়েকশ নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন। লেকের শান্ত জলে ফুল ভাসিয়ে নতুন বছরের মঙ্গল প্রার্থনা করেন সকল বয়সী মানুষ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা বলেন, “বিজু, সাংগ্রাই বা বৈসু—নাম ভিন্ন হলেও এর মূল সুর এক। আমরা ফুলবিজু, মূলবিজু ও গোজ্যপজ্য—এই তিন দিনে ভাগ করে উৎসবটি পালন করি। তবে এই উৎসবের প্রাণ হলো ‘পাজন’। ৩৬ রকমের সবজি দিয়ে তৈরি এই খাবার ছাড়া উৎসবটি কল্পনাই করা যায় না।

পার্বত্য চট্টগ্রামের এই উৎসবের কোনো নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক সূচনালগ্ন জানা না গেলেও যুগ যুগ ধরে এটি পাহাড়ি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে টিকে আছে। উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি জনপদগুলোতে তৈরি হয়েছে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ। পূর্বের সকল হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে নতুন বছরে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির আশায় প্রার্থনা করছেন সবাই। শুধু ফুল ভাসানোই নয়, মারমা ও ত্রিপুরা পল্লীগুলোতে ঐতিহ্যবাহী নাচে-গানে এলাকা এখন সরগরম।