রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলানো এবং আওয়ামী পুনর্বাসনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান।
আজ রবিবার (১০ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য জানান, গত ৫ মে একটি রাজনৈতিক ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগে আমরা ইতোমধ্যে প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছি। এমন অবস্থায় আওয়ামী পুনর্বাসনের অভিযোগ শুধু হাস্যকর নয়, বরং ষড়যন্ত্রমূলক।
উপাচার্য তাঁর অনুপস্থিতিতে কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনাকে ‘অছাত্রসুলভ’ ও ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র, এখানে গোষ্ঠীস্বার্থ হাসিলের জন্য অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে যখন-তখন তালা ঝুলিয়ে অচলাবস্থা তৈরি করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর মেয়াদের সাফল্য তুলে ধরে জানান:শিক্ষক সংকট নিরসন:আগে মাত্র ১৯-২০ জন শিক্ষক থাকলেও বর্তমানে ২৯ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জন বিদেশি পিএইচডিধারী, অবকাঠামো উন্নয়ন: একাডেমিক ভবন, হল, পরিবহন পুল, নতুন বাস ক্রয় এবং রিসার্চ সেন্টারসহ স্থবির হয়ে থাকা প্রকল্পের কাজগুলো দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, অডিট আপত্তি:ইউজিসির অডিট আপত্তির বিষয়টি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং একে ‘দুর্নীতি’ হিসেবে প্রচার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে কিছু শিক্ষার্থীর অতি-তৎপরতার পেছনে কোনো বিশেষ মহলের স্বার্থ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। একইসাথে বস্তুনিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন উপাচার্য। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, কর্মকর্তা এবং রাঙামাটিতে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।










