শিরোনামঃ
Logo পর্যটনকে সহজ করতে বানালো ‘Travela’ অ্যাপ Logo রাঙামাটি আইনজীবী সহকারী (ক্লার্ক) সমিতির নির্বাচন সম্পন Logo নেটওয়ার্ক পেতে গাছের মগঢালে উঠলেন প্রধান শিক্ষক, দুর্গম পাহাড়ে অনলাইন হাজিরার ভোগান্তি Logo মানিকছড়িতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, এনজিও কর্মকর্তা সুপন চাকমার মৃত্যু Logo নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে মহালছড়িতে পিডিবিএফ-এর বিশেষ উদ্যোগ Logo নিরাপদ ফসল উৎপাদনে জোর: মহালছড়িতে কৃষকদের GAP সার্টিফিকেশন প্রশিক্ষণ Logo রাঙামাটিতে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সনাকের মানববন্ধন Logo চাঁদার দাবিতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ১৬ শ্রমিক, গুইমারায় ইউপিডিএফের নির্মম মারধর Logo খাগড়াছড়িতে স্টার্টআপ ও ইনোভেশন শোকেসিং’-এ বাজিমাত: উপজেলায় প্রথম ও জেলায় দ্বিতীয় ‘টিম চুলুবুলু’ Logo শিবিরের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে রাঙামাটি সরকারি কলেজে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
দ্রুত কাজ শেষ করার দাবিতে রাজপথে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রতিবন্ধকতা সরানোর জোর দাবি

লংগদু-নানিয়ারচর সংযোগ সড়ক ১৩ কিলোমিটারের দুর্ভোগে জিম্মি দুই লাখ মানুষের ভাগ্য

রাঙামাটির দুই গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লংগদু ও নানিয়ারচরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—একটি আধুনিক সংযোগ সড়ক। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩ কিলোমিটারের অসমাপ্ত কাজ। দুর্ভোগ যখন চরমে, তখন ঘরে বসে না থেকে রাজপথে নেমেছেন কয়েকশ ভুক্তভোগী মানুষ।

গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজ শেষে লংগদু ও নানিয়ারচরের সীমান্তবর্তী এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে ফুঁসে ওঠে স্থানীয়রা। বক্তারা জানান, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান ভরসা এখন এই সড়কটি। কিন্তু ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের মাঝখানের ১৩ কিলোমিটার অংশ এখনো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌ-পথে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হলে খাগড়াছড়ি হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে রাঙামাটি যেতে হয়, যা সময় ও অর্থ দুই-ই অপচয় করে। বর্তমানে নানিয়ারচর অংশের রাঙ্গাপাড়া থেকে লংগদু অংশের বড়াদম স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত কাজ থমকে থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে।

মানববন্ধনে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। নির্মিত সড়কের অন্তত পাঁচটি স্থানে দুর্বৃত্তরা গর্ত খুঁড়ে এবং গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি—অবশিষ্ট ১৩ কিলোমিটার সড়কে দ্রুত মাটি ভরাট ও অন্তত চারটি কালভার্ট বা পাইপ স্থাপন করতে হবে।সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে এই সংযোগ সড়কটি কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতির লাইফলাইন। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে কি না এবং কবে শেষ হয় দুই লাখ মানুষের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পর্যটনকে সহজ করতে বানালো ‘Travela’ অ্যাপ

দ্রুত কাজ শেষ করার দাবিতে রাজপথে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রতিবন্ধকতা সরানোর জোর দাবি

লংগদু-নানিয়ারচর সংযোগ সড়ক ১৩ কিলোমিটারের দুর্ভোগে জিম্মি দুই লাখ মানুষের ভাগ্য

প্রকাশিত: ০৯:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রাঙামাটির দুই গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লংগদু ও নানিয়ারচরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—একটি আধুনিক সংযোগ সড়ক। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩ কিলোমিটারের অসমাপ্ত কাজ। দুর্ভোগ যখন চরমে, তখন ঘরে বসে না থেকে রাজপথে নেমেছেন কয়েকশ ভুক্তভোগী মানুষ।

গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজ শেষে লংগদু ও নানিয়ারচরের সীমান্তবর্তী এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে ফুঁসে ওঠে স্থানীয়রা। বক্তারা জানান, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান ভরসা এখন এই সড়কটি। কিন্তু ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের মাঝখানের ১৩ কিলোমিটার অংশ এখনো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌ-পথে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হলে খাগড়াছড়ি হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে রাঙামাটি যেতে হয়, যা সময় ও অর্থ দুই-ই অপচয় করে। বর্তমানে নানিয়ারচর অংশের রাঙ্গাপাড়া থেকে লংগদু অংশের বড়াদম স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত কাজ থমকে থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে।

মানববন্ধনে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। নির্মিত সড়কের অন্তত পাঁচটি স্থানে দুর্বৃত্তরা গর্ত খুঁড়ে এবং গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি—অবশিষ্ট ১৩ কিলোমিটার সড়কে দ্রুত মাটি ভরাট ও অন্তত চারটি কালভার্ট বা পাইপ স্থাপন করতে হবে।সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে এই সংযোগ সড়কটি কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতির লাইফলাইন। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে কি না এবং কবে শেষ হয় দুই লাখ মানুষের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা।