শিরোনামঃ
Logo কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎ Logo বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জমকালো গণসংবর্ধনা ‎ Logo কাপ্তাইয়ের ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চান প্রবাসী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ Logo দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে রোববারের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি একাদশ Logo হিল ভিডিপির উদ্যোগে দীঘিনালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo কাপ্তাইয়ে বরইছড়ি মুসলিম সমাজের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ‎ Logo রাঙামাটিতে ১৩তম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি ও কারিগরি বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ‎ Logo পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান—কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আলোচনা সভা Logo মহালছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে রেড ক্রিসেন্টের ফুড প্যাকেজ বিতরণ
দ্রুত কাজ শেষ করার দাবিতে রাজপথে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রতিবন্ধকতা সরানোর জোর দাবি

লংগদু-নানিয়ারচর সংযোগ সড়ক ১৩ কিলোমিটারের দুর্ভোগে জিম্মি দুই লাখ মানুষের ভাগ্য

রাঙামাটির দুই গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লংগদু ও নানিয়ারচরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—একটি আধুনিক সংযোগ সড়ক। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩ কিলোমিটারের অসমাপ্ত কাজ। দুর্ভোগ যখন চরমে, তখন ঘরে বসে না থেকে রাজপথে নেমেছেন কয়েকশ ভুক্তভোগী মানুষ।

গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজ শেষে লংগদু ও নানিয়ারচরের সীমান্তবর্তী এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে ফুঁসে ওঠে স্থানীয়রা। বক্তারা জানান, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান ভরসা এখন এই সড়কটি। কিন্তু ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের মাঝখানের ১৩ কিলোমিটার অংশ এখনো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌ-পথে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হলে খাগড়াছড়ি হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে রাঙামাটি যেতে হয়, যা সময় ও অর্থ দুই-ই অপচয় করে। বর্তমানে নানিয়ারচর অংশের রাঙ্গাপাড়া থেকে লংগদু অংশের বড়াদম স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত কাজ থমকে থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে।

মানববন্ধনে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। নির্মিত সড়কের অন্তত পাঁচটি স্থানে দুর্বৃত্তরা গর্ত খুঁড়ে এবং গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি—অবশিষ্ট ১৩ কিলোমিটার সড়কে দ্রুত মাটি ভরাট ও অন্তত চারটি কালভার্ট বা পাইপ স্থাপন করতে হবে।সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে এই সংযোগ সড়কটি কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতির লাইফলাইন। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে কি না এবং কবে শেষ হয় দুই লাখ মানুষের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎

দ্রুত কাজ শেষ করার দাবিতে রাজপথে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রতিবন্ধকতা সরানোর জোর দাবি

লংগদু-নানিয়ারচর সংযোগ সড়ক ১৩ কিলোমিটারের দুর্ভোগে জিম্মি দুই লাখ মানুষের ভাগ্য

প্রকাশিত: ০৯:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রাঙামাটির দুই গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লংগদু ও নানিয়ারচরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—একটি আধুনিক সংযোগ সড়ক। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩ কিলোমিটারের অসমাপ্ত কাজ। দুর্ভোগ যখন চরমে, তখন ঘরে বসে না থেকে রাজপথে নেমেছেন কয়েকশ ভুক্তভোগী মানুষ।

গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজ শেষে লংগদু ও নানিয়ারচরের সীমান্তবর্তী এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে ফুঁসে ওঠে স্থানীয়রা। বক্তারা জানান, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান ভরসা এখন এই সড়কটি। কিন্তু ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের মাঝখানের ১৩ কিলোমিটার অংশ এখনো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌ-পথে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হলে খাগড়াছড়ি হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে রাঙামাটি যেতে হয়, যা সময় ও অর্থ দুই-ই অপচয় করে। বর্তমানে নানিয়ারচর অংশের রাঙ্গাপাড়া থেকে লংগদু অংশের বড়াদম স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত কাজ থমকে থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে।

মানববন্ধনে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। নির্মিত সড়কের অন্তত পাঁচটি স্থানে দুর্বৃত্তরা গর্ত খুঁড়ে এবং গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি—অবশিষ্ট ১৩ কিলোমিটার সড়কে দ্রুত মাটি ভরাট ও অন্তত চারটি কালভার্ট বা পাইপ স্থাপন করতে হবে।সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে এই সংযোগ সড়কটি কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতির লাইফলাইন। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে কি না এবং কবে শেষ হয় দুই লাখ মানুষের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা।