দুর্গম পাহাড়ের সাধারণ মানুষের জন্য আধুনিক চিকিৎসাসেবা এখন আর দূর আকাশের চাঁদ নয়, বরং হাতের নাগালেই। রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে এক বয়স্ক নারী রোগীর শরীর থেকে প্রায় ১০ কেজি ওজনের একটি বিশাল টিউমার সফলভাবে অপসারণ করে এমনটাই প্রমাণ করলেন স্থানীয় চিকিৎসকরা। দীর্ঘ ও জটিল এই অস্ত্রোপচারের সফলতায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে রোগীর পরিবার, আর প্রশংসায় ভাসছেন হাসপাতালের একঝাঁক তরুণ চিকিৎসক।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ৬নং বালুখালির বাসিন্দা ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে এই টিউমারের যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। বয়সজনিত কারণে তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বিশাল এই টিউমার নিয়ে পুরো পরিবার চরম উদ্বেগ ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।
অবশেষে স্থানীয়দের পরামর্শে চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রেখে গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে রোগীকে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার পর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে অস্ত্রোপচারটি ছিল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সব ধরনের ঝুঁকি ও জটিলতা মাথায় নিয়ে গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে চিকিৎসকরা অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ সময়ব্যাপী অত্যন্ত নিখুঁত ও জটিল এই অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসকরা সফলভাবে রোগীর শরীর থেকে ১০ কেজি ওজনের সেই বিশাল টিউমারটি বের করে আনতে সক্ষম হন।
সফল এই অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করেন সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ আবদুল্লাহ আল মামুন এবং জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সাগর নন্দী। তাঁদের সাথে ওটি-তে নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন সার্জারি বিভাগের অন্য সদস্যরাও।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সফল অস্ত্রোপচারের পর রোগী বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। দিন দিন তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
দুর্গম অঞ্চলে এমন অভাবনীয় সাফল্যের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা এবং আবাসিক চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ শওকত আকবর খান পুরো অপারেশন টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত ও মানবিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা সর্বদা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।










