“ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক”—এই প্রত্যয় নিয়ে এবং বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে খাগড়াছড়ির রামগড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম। নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপজেলার সাড়ে চার শতাধিক পরিবার সরাসরি সরকারি সুবিধার আওতায় এলো।
বুধবার (১৭ জুন) এই পাইলটিং কার্যক্রমের তৃতীয় পর্যায়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌলভীবাজার জেলা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের ১৯টি উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন। দেশব্যাপী এই উদ্বোধনের অংশ হিসেবে রামগড় উপজেলাতেও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।
রামগড় উপজেলায় আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপি নেতা আলহাজ্ব আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদত-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, “নির্বাচনের আগে আমাদের নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অঙ্গীকার করেছিলেন—জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় গেলে দেশের প্রান্তিক মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি তাঁর সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এই কার্ড দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষার হাতিয়ার হবে।
অনুষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী দিনে রামগড় উপজেলার ১ নং রামগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত লামকুপাড়া এলাকার ৪৫৬টি হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড হস্তান্তর করা হয়।
কার্ড পেয়ে নিজের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করে স্থানীয় সুবিধাভোগী আনু মারমা বলেন, এই কার্ড আমাদের মতো গরিব পরিবারের জন্য অনেক বড় সহায় হবে। নির্বাচনের সময় দেওয়া কথা রক্ষা করে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
রামগড় উপজেলার এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য এলাকাতেও দ্রুত জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।















