শিরোনামঃ
Logo মহালছড়িতে শিক্ষার্থীদের ‘স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত Logo বিজ্ঞানের জয়গান মানিকছড়িতে: শিক্ষার্থীদের চমকপ্রদ উদ্ভাবনী মেলা Logo কেন্দ্রীয় সাইবার দলের সহ-প্রচার সম্পাদক হলেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান রিয়াদ Logo ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড রামগড়: ২০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মুখে হাসল ‘ত্রাণের চাল’ Logo ২ মাস ধরে ইউএনওহীন মহালছড়ি: অভিভাবকহীন উপজেলায় স্থবিরতা, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ Logo দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী পদে ফেরানোর দাবিতে উত্তাল খাগড়াছড়ি: কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি Logo আর্থিক অসুবিধায় থাকা কৃষকের পাশে ছাত্রদল, ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন নেতাকর্মীরা Logo রাস্তার ওপরই রাখা হচ্ছে শত শত কেরেট; ট্রাফিক আইন তোয়াক্কা না করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও দূরপাল্লার চালকেরা। Logo ৩ মাসের মাথায় পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, মন্ত্রণালয়ে হস্তক্ষেপ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে উত্তাল পরিস্থিতি Logo আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে গোপন আঁতাত ও চাঁদাবাজি, উত্তপ্ত রাঙ্গামাটি বিএনপি
টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালানো জামাল ও মেধাবী জয়নালের সাফল্যে রাঙামাটিতে আনন্দের জোয়ার।

অদম্য ইচ্ছাশক্তির জয়: প্রতিকূলতা জয় করে আইনজীবী হলেন রাঙামাটির দুই কৃতি সন্তান

পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে লুকিয়ে থাকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, তেমনি অনেক সময় লুকিয়ে থাকে কঠোর জীবনসংগ্রামের গল্প। আর সেই সংগ্রামকে জয় করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন রাঙামাটির দুই মেধাবী তরুণ— মোঃ জামাল হোসেন ও জয়নাল আবেদীন। সম্প্রতি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তারা।

মরহুম আবু মুছার পুত্র জামাল হোসেনের পথচলাটা মোটেও মসৃণ ছিল না। ২০০০ সালে রাঙামাটি সিনিয়র মাদরাসা থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করে দাখিল ও আলিমে অসামান্য ফলাফল করেন তিনি। রাঙামাটি সরকারি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর চট্টগ্রাম ল কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন।

জামালের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ত্যাগের ইতিহাস। নবম শ্রেণি থেকেই তাকে টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচ যোগাতে হয়েছে। ভোর থেকে শুরু করে রাত ৯টা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি অসুস্থ মা-বাবার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। আর্থিক অনটন যাকে দমাতে পারেনি, আজ তিনি একজন গর্বিত আইনজীবী।

অন্যদিকে, আব্দুল হাকিমের পুত্র জয়নাল আবেদীন তার সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছেন শুরু থেকেই। লংগদুর রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে। সেখান থেকেই কৃতিত্বের সাথে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ২০১৯ ও ২০২০ সালে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর দীর্ঘ অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে এবার তিনি আইন পেশায় প্রবেশের চূড়ান্ত সনদ পেলেন।

এই দুই নবীন আইনজীবীর সাফল্যে রাঙামাটির স্থানীয় সমাজ ও সহপাঠীদের মধ্যে বইছে আনন্দের ঢেউ। এলাকাবাসীর মতে, জামাল ও জয়নালের এই উত্তরণ কেবল তাদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং এটি পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া তরুণ সমাজের জন্য একটি বিশাল অনুপ্রেরণা। তারা প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।
আগামী দিনে সততা ও নিষ্ঠার সাথে বিচারপ্রার্থী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবেন—এমনটাই প্রত্যাশা রাঙামাটিবাসীর।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

মহালছড়িতে শিক্ষার্থীদের ‘স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত

টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালানো জামাল ও মেধাবী জয়নালের সাফল্যে রাঙামাটিতে আনন্দের জোয়ার।

অদম্য ইচ্ছাশক্তির জয়: প্রতিকূলতা জয় করে আইনজীবী হলেন রাঙামাটির দুই কৃতি সন্তান

প্রকাশিত: ০৫:১৭:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে লুকিয়ে থাকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, তেমনি অনেক সময় লুকিয়ে থাকে কঠোর জীবনসংগ্রামের গল্প। আর সেই সংগ্রামকে জয় করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন রাঙামাটির দুই মেধাবী তরুণ— মোঃ জামাল হোসেন ও জয়নাল আবেদীন। সম্প্রতি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তারা।

মরহুম আবু মুছার পুত্র জামাল হোসেনের পথচলাটা মোটেও মসৃণ ছিল না। ২০০০ সালে রাঙামাটি সিনিয়র মাদরাসা থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করে দাখিল ও আলিমে অসামান্য ফলাফল করেন তিনি। রাঙামাটি সরকারি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর চট্টগ্রাম ল কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন।

জামালের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ত্যাগের ইতিহাস। নবম শ্রেণি থেকেই তাকে টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচ যোগাতে হয়েছে। ভোর থেকে শুরু করে রাত ৯টা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি অসুস্থ মা-বাবার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। আর্থিক অনটন যাকে দমাতে পারেনি, আজ তিনি একজন গর্বিত আইনজীবী।

অন্যদিকে, আব্দুল হাকিমের পুত্র জয়নাল আবেদীন তার সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছেন শুরু থেকেই। লংগদুর রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে। সেখান থেকেই কৃতিত্বের সাথে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ২০১৯ ও ২০২০ সালে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর দীর্ঘ অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে এবার তিনি আইন পেশায় প্রবেশের চূড়ান্ত সনদ পেলেন।

এই দুই নবীন আইনজীবীর সাফল্যে রাঙামাটির স্থানীয় সমাজ ও সহপাঠীদের মধ্যে বইছে আনন্দের ঢেউ। এলাকাবাসীর মতে, জামাল ও জয়নালের এই উত্তরণ কেবল তাদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং এটি পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া তরুণ সমাজের জন্য একটি বিশাল অনুপ্রেরণা। তারা প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।
আগামী দিনে সততা ও নিষ্ঠার সাথে বিচারপ্রার্থী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবেন—এমনটাই প্রত্যাশা রাঙামাটিবাসীর।