শিরোনামঃ
Logo মহালছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ‘আশিকা’: খাদ্য, শিক্ষা ও আশ্রয়ণ উপকরণ পেয়ে মুখে হাসির ঝিলিক Logo মহালছড়িতে ৩৫০ কৃষকের ঘরে আশার আলো: বিনামূল্যে মিলল সার ও বীজ Logo সেতু ঝুঁকিতে ফেলে মাটি সাবাড়! হাতেনাতে ধরে জরিমানা আদায় করলো ভ্রাম্যমাণ আদালত Logo মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য: উদ্ধার বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও ভারতীয় রুপি Logo আইনি ব্যাখ্যার পর ৯৩% মেধা ও ৭% কোটায় দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দাবি Logo রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, বাবা-মা আটক Logo অল্পের জন্য বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেল হাটহাজারী-অক্সিজেন সড়ক, অলৌকিক বেঁচে যাওয়া Logo লংগদুতে চাঁদা তুলতে গিয়ে অস্ত্র ও টাকাসহ আটক জেএসএস ক্যাডার বিজিবিতে হস্তান্তর Logo কাউখালীতে পুলিশের চড়াও অভিযান: জিআর পরোয়ানাভুক্ত ২ আসামি গ্রেপ্তার Logo মাটিরাঙ্গায় দুই হোটেলে আশিয়ান অভিযান: পচা-বাসি খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দায়ে জরিমানা
ইটের সলিং তুলে মাসের পর মাস ফেলে রেখেছে ঠিকাদার; হাঁটু সমান কাদায় অবরুদ্ধ হাজারো মানুষ।

রামগড়-পাতাছড়া সড়ক এখন মরণফাঁদ: উন্নয়নের নামে চরম জনদুর্ভোগ!

উন্নয়ন যখন যন্ত্রণার নামান্তর হয়ে দাঁড়ায়, তখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভের সীমা থাকে না। খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নে এখন ঠিক এমনই এক চিত্র ফুটে উঠেছে। গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ইটের সলিং তুলে ফেলা হলেও কার্পেটিংয়ের কাজ থমকে আছে মাসের পর মাস। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক এখন এক দুর্ভেদ্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলজিইডির বিশেষ বরাদ্দে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে থেকে প্রায় ৪.৯৫০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায় ‘এমএস রিফ এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ইমু এন্টারপ্রাইজ’। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম গাফিলতি ও ধীরগতির কারণে এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরনো ইটের সলিং তুলে ফেলার পর কার্পেটিং না করেই রাস্তাটি ফেলে রাখা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি নরম হয়ে তৈরি হচ্ছে হাঁটু সমান কাদা। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম আক্ষেপ করে বলেন:আগে ভাঙাচোরা হলেও অন্তত চলা যেত, এখন বৃষ্টি হলে রাস্তার ওপর দিয়ে হাঁটাও দায় হয়ে পড়েছে। আমরা ঘরের ভেতর বন্দি হয়ে আছি।

সড়কের এই বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও জরুরি রোগীরা। ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তার জানান, কাদার কারণে এলাকায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহন ঢুকতে পারছে না। যেকোনো জরুরি মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা বারবার উপজেলা এলজিইডি অফিসে অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা নাইমুল ইসলাম জানিয়েছেন:অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঠিকাদারকে কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

পাতাছড়াবাসীর এখন একটাই দাবি—বর্ষা পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই যেন দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হয়। অন্যথায় এই হাজারো মানুষের কষ্ট চরমে পৌঁছাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহালছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ‘আশিকা’: খাদ্য, শিক্ষা ও আশ্রয়ণ উপকরণ পেয়ে মুখে হাসির ঝিলিক

ইটের সলিং তুলে মাসের পর মাস ফেলে রেখেছে ঠিকাদার; হাঁটু সমান কাদায় অবরুদ্ধ হাজারো মানুষ।

রামগড়-পাতাছড়া সড়ক এখন মরণফাঁদ: উন্নয়নের নামে চরম জনদুর্ভোগ!

প্রকাশিত: ০১:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

উন্নয়ন যখন যন্ত্রণার নামান্তর হয়ে দাঁড়ায়, তখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভের সীমা থাকে না। খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নে এখন ঠিক এমনই এক চিত্র ফুটে উঠেছে। গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ইটের সলিং তুলে ফেলা হলেও কার্পেটিংয়ের কাজ থমকে আছে মাসের পর মাস। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক এখন এক দুর্ভেদ্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলজিইডির বিশেষ বরাদ্দে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে থেকে প্রায় ৪.৯৫০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায় ‘এমএস রিফ এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ইমু এন্টারপ্রাইজ’। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম গাফিলতি ও ধীরগতির কারণে এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরনো ইটের সলিং তুলে ফেলার পর কার্পেটিং না করেই রাস্তাটি ফেলে রাখা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি নরম হয়ে তৈরি হচ্ছে হাঁটু সমান কাদা। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম আক্ষেপ করে বলেন:আগে ভাঙাচোরা হলেও অন্তত চলা যেত, এখন বৃষ্টি হলে রাস্তার ওপর দিয়ে হাঁটাও দায় হয়ে পড়েছে। আমরা ঘরের ভেতর বন্দি হয়ে আছি।

সড়কের এই বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও জরুরি রোগীরা। ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তার জানান, কাদার কারণে এলাকায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহন ঢুকতে পারছে না। যেকোনো জরুরি মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা বারবার উপজেলা এলজিইডি অফিসে অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা নাইমুল ইসলাম জানিয়েছেন:অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঠিকাদারকে কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

পাতাছড়াবাসীর এখন একটাই দাবি—বর্ষা পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই যেন দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হয়। অন্যথায় এই হাজারো মানুষের কষ্ট চরমে পৌঁছাবে।