শিরোনামঃ
Logo মহালছড়িতে শিক্ষার্থীদের ‘স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত Logo বিজ্ঞানের জয়গান মানিকছড়িতে: শিক্ষার্থীদের চমকপ্রদ উদ্ভাবনী মেলা Logo কেন্দ্রীয় সাইবার দলের সহ-প্রচার সম্পাদক হলেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান রিয়াদ Logo ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড রামগড়: ২০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মুখে হাসল ‘ত্রাণের চাল’ Logo ২ মাস ধরে ইউএনওহীন মহালছড়ি: অভিভাবকহীন উপজেলায় স্থবিরতা, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ Logo দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী পদে ফেরানোর দাবিতে উত্তাল খাগড়াছড়ি: কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি Logo আর্থিক অসুবিধায় থাকা কৃষকের পাশে ছাত্রদল, ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন নেতাকর্মীরা Logo রাস্তার ওপরই রাখা হচ্ছে শত শত কেরেট; ট্রাফিক আইন তোয়াক্কা না করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও দূরপাল্লার চালকেরা। Logo ৩ মাসের মাথায় পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, মন্ত্রণালয়ে হস্তক্ষেপ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে উত্তাল পরিস্থিতি Logo আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে গোপন আঁতাত ও চাঁদাবাজি, উত্তপ্ত রাঙ্গামাটি বিএনপি
ইটের সলিং তুলে মাসের পর মাস ফেলে রেখেছে ঠিকাদার; হাঁটু সমান কাদায় অবরুদ্ধ হাজারো মানুষ।

রামগড়-পাতাছড়া সড়ক এখন মরণফাঁদ: উন্নয়নের নামে চরম জনদুর্ভোগ!

উন্নয়ন যখন যন্ত্রণার নামান্তর হয়ে দাঁড়ায়, তখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভের সীমা থাকে না। খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নে এখন ঠিক এমনই এক চিত্র ফুটে উঠেছে। গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ইটের সলিং তুলে ফেলা হলেও কার্পেটিংয়ের কাজ থমকে আছে মাসের পর মাস। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক এখন এক দুর্ভেদ্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলজিইডির বিশেষ বরাদ্দে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে থেকে প্রায় ৪.৯৫০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায় ‘এমএস রিফ এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ইমু এন্টারপ্রাইজ’। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম গাফিলতি ও ধীরগতির কারণে এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরনো ইটের সলিং তুলে ফেলার পর কার্পেটিং না করেই রাস্তাটি ফেলে রাখা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি নরম হয়ে তৈরি হচ্ছে হাঁটু সমান কাদা। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম আক্ষেপ করে বলেন:আগে ভাঙাচোরা হলেও অন্তত চলা যেত, এখন বৃষ্টি হলে রাস্তার ওপর দিয়ে হাঁটাও দায় হয়ে পড়েছে। আমরা ঘরের ভেতর বন্দি হয়ে আছি।

সড়কের এই বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও জরুরি রোগীরা। ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তার জানান, কাদার কারণে এলাকায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহন ঢুকতে পারছে না। যেকোনো জরুরি মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা বারবার উপজেলা এলজিইডি অফিসে অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা নাইমুল ইসলাম জানিয়েছেন:অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঠিকাদারকে কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

পাতাছড়াবাসীর এখন একটাই দাবি—বর্ষা পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই যেন দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হয়। অন্যথায় এই হাজারো মানুষের কষ্ট চরমে পৌঁছাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহালছড়িতে শিক্ষার্থীদের ‘স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত

ইটের সলিং তুলে মাসের পর মাস ফেলে রেখেছে ঠিকাদার; হাঁটু সমান কাদায় অবরুদ্ধ হাজারো মানুষ।

রামগড়-পাতাছড়া সড়ক এখন মরণফাঁদ: উন্নয়নের নামে চরম জনদুর্ভোগ!

প্রকাশিত: ০১:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

উন্নয়ন যখন যন্ত্রণার নামান্তর হয়ে দাঁড়ায়, তখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভের সীমা থাকে না। খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নে এখন ঠিক এমনই এক চিত্র ফুটে উঠেছে। গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ইটের সলিং তুলে ফেলা হলেও কার্পেটিংয়ের কাজ থমকে আছে মাসের পর মাস। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক এখন এক দুর্ভেদ্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলজিইডির বিশেষ বরাদ্দে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে থেকে প্রায় ৪.৯৫০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায় ‘এমএস রিফ এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ইমু এন্টারপ্রাইজ’। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম গাফিলতি ও ধীরগতির কারণে এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরনো ইটের সলিং তুলে ফেলার পর কার্পেটিং না করেই রাস্তাটি ফেলে রাখা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি নরম হয়ে তৈরি হচ্ছে হাঁটু সমান কাদা। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম আক্ষেপ করে বলেন:আগে ভাঙাচোরা হলেও অন্তত চলা যেত, এখন বৃষ্টি হলে রাস্তার ওপর দিয়ে হাঁটাও দায় হয়ে পড়েছে। আমরা ঘরের ভেতর বন্দি হয়ে আছি।

সড়কের এই বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও জরুরি রোগীরা। ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তার জানান, কাদার কারণে এলাকায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহন ঢুকতে পারছে না। যেকোনো জরুরি মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা বারবার উপজেলা এলজিইডি অফিসে অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা নাইমুল ইসলাম জানিয়েছেন:অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঠিকাদারকে কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

পাতাছড়াবাসীর এখন একটাই দাবি—বর্ষা পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই যেন দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হয়। অন্যথায় এই হাজারো মানুষের কষ্ট চরমে পৌঁছাবে।