শিরোনামঃ
Logo বান্দরবানে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত Logo মহালছড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত Logo কাপ্তাইয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত Logo রাঙামাটিতে কোতয়ালী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার ৭ Logo রাজপথের পরীক্ষিত লড়াই থেকে ভোটের ময়দানে: ভিপি শাহীনের জন্মদিনে নেতাকর্মীদের উল্লাস Logo খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে বিএনপির প্রস্তুতি সভায় হামলা: আহত ৪, চমেক হাসপাতালে প্রেরিত ৩ Logo টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান: গুলিবিনিময়ে সেনাসদস্য শহীদ, জিম্মি থেকে মুক্ত ৫৭ Logo মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: চিকিৎসা ও ওষুধ পেলেন দুর্গম এলাকার শতাধিক অ-বাঙালি পাহাড়ি Logo মহালছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর যাত্রা শুরু Logo কাপ্তাইয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’: ৫০৩ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধন
সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীদের গুলি; পাল্টা জবাবে ১ জন গুলিবিদ্ধ, উদ্ধার হলো একে-২২ রাইফেল।

রামগড়ে সেনাবহিনীর দুঃসাহসিক অভিযান: গোলাগুলির পর ইউপিডিএফ’র শীর্ষ কালেক্টরসহ ৩ সন্ত্রাসী আটক, ভারী অস্ত্র উদ্ধার

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রামগড়ে সেনাবাহিনীর এক দুঃসাহসিক ও বিশেষ অভিযানে পাহাড়ি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপ)-এর এক শীর্ষ কালেক্টরসহ তিন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। অভিযান চলাকালীন সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে তুমুল গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, এতে এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেলসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ।

শনিবার (১৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে সিন্ধুকছড়ি জোনের জালিয়া পাড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের বুদংছড়া এলাকায় এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানটি পরিচালিত হয়।

সেনা সূত্র জানায়, বুদংছড়া এলাকায় ইউপিডিএফের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জালিয়া পাড়া আর্মি ক্যাম্পের জোয়ানরা দ্রুত ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করেন। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা আকস্মিক গুলি ছুড়তে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়।

উভয়পক্ষের গোলাগুলির এক পর্যায়ে সুইথোয়াই মারমা (৩৫) নামে এক সন্ত্রাসী ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় পালানোর চেষ্টাকালে ঘেরাও করে ইউপিডিএফ-এর অন্যতম প্রধান চাঁদা কালেক্টর রনেল চাকমা ওরফে মন্টু চাকমা (গুইমারা) এবং রাজু মারমা ওরফে সাচিংকে (১৮, রামগড়) হাতেনাতে আটক করে সেনা সদস্যরা।

গোলাগুলি শেষে অভিযানস্থল তল্লাশি করে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেল, ১টি ম্যাগাজিন এবং ৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, গুলিবিদ্ধ সন্ত্রাসী সুইথোয়াই মারমাকে উদ্ধার করে সেনাবাহিনী দ্রুত রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা অতর্কিত গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা গুলি চালানো হয়। আটক বাকি দুই সন্ত্রাসী এবং উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র রামগড় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ধারায় মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর এমন চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বান্দরবানে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত

সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীদের গুলি; পাল্টা জবাবে ১ জন গুলিবিদ্ধ, উদ্ধার হলো একে-২২ রাইফেল।

রামগড়ে সেনাবহিনীর দুঃসাহসিক অভিযান: গোলাগুলির পর ইউপিডিএফ’র শীর্ষ কালেক্টরসহ ৩ সন্ত্রাসী আটক, ভারী অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশিত: ০১:৪৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রামগড়ে সেনাবাহিনীর এক দুঃসাহসিক ও বিশেষ অভিযানে পাহাড়ি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপ)-এর এক শীর্ষ কালেক্টরসহ তিন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। অভিযান চলাকালীন সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে তুমুল গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, এতে এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেলসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ।

শনিবার (১৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে সিন্ধুকছড়ি জোনের জালিয়া পাড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের বুদংছড়া এলাকায় এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানটি পরিচালিত হয়।

সেনা সূত্র জানায়, বুদংছড়া এলাকায় ইউপিডিএফের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জালিয়া পাড়া আর্মি ক্যাম্পের জোয়ানরা দ্রুত ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করেন। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা আকস্মিক গুলি ছুড়তে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়।

উভয়পক্ষের গোলাগুলির এক পর্যায়ে সুইথোয়াই মারমা (৩৫) নামে এক সন্ত্রাসী ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় পালানোর চেষ্টাকালে ঘেরাও করে ইউপিডিএফ-এর অন্যতম প্রধান চাঁদা কালেক্টর রনেল চাকমা ওরফে মন্টু চাকমা (গুইমারা) এবং রাজু মারমা ওরফে সাচিংকে (১৮, রামগড়) হাতেনাতে আটক করে সেনা সদস্যরা।

গোলাগুলি শেষে অভিযানস্থল তল্লাশি করে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেল, ১টি ম্যাগাজিন এবং ৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, গুলিবিদ্ধ সন্ত্রাসী সুইথোয়াই মারমাকে উদ্ধার করে সেনাবাহিনী দ্রুত রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা অতর্কিত গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা গুলি চালানো হয়। আটক বাকি দুই সন্ত্রাসী এবং উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র রামগড় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ধারায় মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর এমন চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে।