দুপুর গড়াতেই স্কুল ঘরে ঝুলছে তালা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কারো দেখা নেই চারপাশ জুড়ে। অথচ বিদ্যালয়ের শূন্য আঙ্গিনায় ঠিকঠাকই উড়ছে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুপুরের মধ্যেই বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার এমন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মানিকছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ‘ফকিরনালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’।
আজ ১৭ই মে রবিবার, যথানিয়মে বিদ্যালয় খোলা থাকার কথা থাকলেও দুপুরের মধ্যেই অঘোষিতভাবে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় ফকিরনালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নিয়ম অনুযায়ী বিকেল পর্যন্ত পতাকা উত্তোলিত থাকার পর তা নামানোর কথা থাকলেও, স্কুল বন্ধ হওয়ার পরও বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পতাকা উড়তে দেখেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্কুলটি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় শিক্ষকরা প্রায়শই নিজেদের ইচ্ছামতো দুপুরের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করে চলে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্কুল কখন খোলে আর কখন বন্ধ হয়, তার কোনো ঠিক নেই। শিক্ষকরা ঠিকমতো না আসলে আমাদের ছেলেমেয়েরা কী শিখবে, স্কুল ফাঁকি দেওয়ার এই অভিনব চিত্র সামনে আসতেই পুরো উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। স্কুল বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিকেল পর্যন্ত পতাকা ওড়ার এই ঘটনাটির পর প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমের গুণগত মান নিয়ে।
সচেতন মহলের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলোতে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির অভাবে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তড়িঘড়ি করে স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার এই সংস্কৃতি পাহাড়ের প্রান্তিক শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুর্গম ফকিরনালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই “পতাকা রহস্য” এবং অকালে স্কুল বন্ধের নেপথ্যে আসল কারণ কী, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।










