শিরোনামঃ
Logo মহালছড়িতে ৩৫০ কৃষকের ঘরে আশার আলো: বিনামূল্যে মিলল সার ও বীজ Logo সেতু ঝুঁকিতে ফেলে মাটি সাবাড়! হাতেনাতে ধরে জরিমানা আদায় করলো ভ্রাম্যমাণ আদালত Logo মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য: উদ্ধার বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও ভারতীয় রুপি Logo আইনি ব্যাখ্যার পর ৯৩% মেধা ও ৭% কোটায় দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দাবি Logo রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, বাবা-মা আটক Logo অল্পের জন্য বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেল হাটহাজারী-অক্সিজেন সড়ক, অলৌকিক বেঁচে যাওয়া Logo লংগদুতে চাঁদা তুলতে গিয়ে অস্ত্র ও টাকাসহ আটক জেএসএস ক্যাডার বিজিবিতে হস্তান্তর Logo কাউখালীতে পুলিশের চড়াও অভিযান: জিআর পরোয়ানাভুক্ত ২ আসামি গ্রেপ্তার Logo মাটিরাঙ্গায় দুই হোটেলে আশিয়ান অভিযান: পচা-বাসি খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দায়ে জরিমানা Logo সড়ক ও স্বাস্থ্যসেবা চালুর আশ্বাসে লংগদুবাসীর স্বস্তি: বিলাইছড়িতে বন্যাদুর্গতদের মাঝে খাদ্য সহায়তা
৩৫ দিনেও ব্রয়লারের ওজন মাত্র ৭০০ গ্রাম; অভিযোগ জানিয়েও মিলছে না সুরাহা, ফোন ধরেন না জিএম

চুক্তিভঙ্গের বেড়াজালে সি পি কোম্পানি: খাগড়াছড়িতে নিম্নমানের ফিড ও বাচ্চায় ডিলারের মাথায় হাত, লাখ টাকার লোকসান

চুক্তি অনুযায়ী মানসম্মত বাচ্চা ও পোল্ট্রি ফিড (খাদ্য) সরবরাহ না করে খাগড়াছড়ির রামগড়ে এক খামারির সাথে চরম প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘সি পি কোম্পানি’র (CP Company) বিরুদ্ধে।

কোম্পানির খাগড়াছড়ি ব্রাঞ্চের এই অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে গত চার-পাঁচ মাস ধরে লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় এক ডিলার।
ভুক্তভোগী রামগড়ের ‘নাজমুল পোল্ট্রি’-র সত্যাধিকারী ও সি পি ইন্টিগ্রেশন ডিলার মো. সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সি পি কোম্পানির সাথে চুক্তি অনুযায়ী তিনি খামারে মুরগি পালন করে আসছিলেন। কিন্তু গত ৪-৫ মাস ধরে কোম্পানিটি তাকে অত্যন্ত নিম্নমানের পোল্ট্রি খাদ্য এবং রোগাক্রান্ত, দুর্বল বাচ্চা সরবরাহ করে আসছে, যা সরাসরি চুক্তিভঙ্গের শামিল।

সাধারণত ব্রয়লার মুরগির বয়স ৩৫ দিন হলে ওজন ২ কেজি বা তার বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু সি পি কোম্পানির নিম্নমানের ফিড ও বাচ্চার কারণে আমার খামারে ৩৫ দিন পার হওয়ার পরও মুরগির গড় ওজন আসছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম! এর ফলে গত ছয় মাস ধরে আমি শুধু লোকসানই গুনে যাচ্ছি। অর্থনৈতিকভাবে আমি এখন সম্পূর্ণ পঙ্গু হওয়ার পথে।

ভুক্তভোগী ডিলার সাইফুল ইসলাম আরও জানান, এই বিপর্যয়ের পর তিনি বারবার সি পি কোম্পানির খাগড়াছড়ি ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এই সংকটের কোনো স্থায়ী সুরাহা বা ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নেননি। নিরুপায় হয়ে সাইফুল ইসলাম সি পি কোম্পানির ইন্টিগ্রেশন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আনোয়ার সাহেবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ের খামারি ও ডিলারেরা সি পি কোম্পানির মতো বড় প্রতিষ্ঠানের এমন দায়িত্বহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে এই চুক্তিভঙ্গের সুষ্ঠু তদন্ত, নিম্নমানের ফিড ও বাচ্চা সরবরাহ বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ডিলারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

 

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

মহালছড়িতে ৩৫০ কৃষকের ঘরে আশার আলো: বিনামূল্যে মিলল সার ও বীজ

৩৫ দিনেও ব্রয়লারের ওজন মাত্র ৭০০ গ্রাম; অভিযোগ জানিয়েও মিলছে না সুরাহা, ফোন ধরেন না জিএম

চুক্তিভঙ্গের বেড়াজালে সি পি কোম্পানি: খাগড়াছড়িতে নিম্নমানের ফিড ও বাচ্চায় ডিলারের মাথায় হাত, লাখ টাকার লোকসান

প্রকাশিত: ০২:৫৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

চুক্তি অনুযায়ী মানসম্মত বাচ্চা ও পোল্ট্রি ফিড (খাদ্য) সরবরাহ না করে খাগড়াছড়ির রামগড়ে এক খামারির সাথে চরম প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘সি পি কোম্পানি’র (CP Company) বিরুদ্ধে।

কোম্পানির খাগড়াছড়ি ব্রাঞ্চের এই অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে গত চার-পাঁচ মাস ধরে লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় এক ডিলার।
ভুক্তভোগী রামগড়ের ‘নাজমুল পোল্ট্রি’-র সত্যাধিকারী ও সি পি ইন্টিগ্রেশন ডিলার মো. সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সি পি কোম্পানির সাথে চুক্তি অনুযায়ী তিনি খামারে মুরগি পালন করে আসছিলেন। কিন্তু গত ৪-৫ মাস ধরে কোম্পানিটি তাকে অত্যন্ত নিম্নমানের পোল্ট্রি খাদ্য এবং রোগাক্রান্ত, দুর্বল বাচ্চা সরবরাহ করে আসছে, যা সরাসরি চুক্তিভঙ্গের শামিল।

সাধারণত ব্রয়লার মুরগির বয়স ৩৫ দিন হলে ওজন ২ কেজি বা তার বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু সি পি কোম্পানির নিম্নমানের ফিড ও বাচ্চার কারণে আমার খামারে ৩৫ দিন পার হওয়ার পরও মুরগির গড় ওজন আসছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম! এর ফলে গত ছয় মাস ধরে আমি শুধু লোকসানই গুনে যাচ্ছি। অর্থনৈতিকভাবে আমি এখন সম্পূর্ণ পঙ্গু হওয়ার পথে।

ভুক্তভোগী ডিলার সাইফুল ইসলাম আরও জানান, এই বিপর্যয়ের পর তিনি বারবার সি পি কোম্পানির খাগড়াছড়ি ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এই সংকটের কোনো স্থায়ী সুরাহা বা ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নেননি। নিরুপায় হয়ে সাইফুল ইসলাম সি পি কোম্পানির ইন্টিগ্রেশন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আনোয়ার সাহেবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ের খামারি ও ডিলারেরা সি পি কোম্পানির মতো বড় প্রতিষ্ঠানের এমন দায়িত্বহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে এই চুক্তিভঙ্গের সুষ্ঠু তদন্ত, নিম্নমানের ফিড ও বাচ্চা সরবরাহ বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ডিলারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।