শিরোনামঃ
Logo কাপ্তাইয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত Logo রাঙামাটিতে কোতয়ালী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার ৭ Logo রাজপথের পরীক্ষিত লড়াই থেকে ভোটের ময়দানে: ভিপি শাহীনের জন্মদিনে নেতাকর্মীদের উল্লাস Logo খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে বিএনপির প্রস্তুতি সভায় হামলা: আহত ৪, চমেক হাসপাতালে প্রেরিত ৩ Logo টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান: গুলিবিনিময়ে সেনাসদস্য শহীদ, জিম্মি থেকে মুক্ত ৫৭ Logo মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: চিকিৎসা ও ওষুধ পেলেন দুর্গম এলাকার শতাধিক অ-বাঙালি পাহাড়ি Logo মহালছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর যাত্রা শুরু Logo কাপ্তাইয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’: ৫০৩ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধন Logo হারানো ৫০টির বেশি ফোন উদ্ধার করে মালিকদের হাসিমুখ ফিরিয়ে দিল রাঙ্গামাটি পুলিশ Logo কাপ্তাই চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন: প্রথম দিনেই ফরম নিলেন ১ প্রার্থী, চাঞ্চল্য ভোটারদের মাঝে

কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের পাহাড় মানেই ছিল একসময় ঘন সবুজ বন, জীববৈচিত্র্য আর বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই চিত্র এখন পুরোপুরি পাল্টে গেছে। নির্বিচারে গাছ কাটা আর নজরদারির অভাবে উজাড় হয়ে যাচ্ছে কাপ্তাইয়ের অমূল্য বনভূমি।
‎কাপ্তাই জেটিঘাটসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন শুধুই এক নির্মম সত্য—সামনে কিছু গাছপালা থাকলেও পেছনের পুরো অংশজুড়ে খালি পাহাড় আর ধ্বংসের ক্ষতচিহ্ন।

বনের এই করুণ দশার কারণে সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে পড়েছে বন্যপ্রাণী। হাতি, বানরসহ নানা প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণীর খাদ্য এবং নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। স্বাভাবিক পরিবেশ হারিয়ে এই বন্যপ্রাণীগুলো এখন লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসার ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে—যে বন রক্ষার মূল দায়িত্ব যাদের কাঁধে, সেই বনই যদি এভাবে উজাড় হতে থাকে, তবে প্রশ্ন জাগে: রক্ষকই কি তবে ভক্ষক!

পরিবেশবিদদের মতে, বন কেবল কাঠের উৎস নয়; এটি মাটি, পানি, বায়ু এবং জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা করে। পাহাড়ি অঞ্চলে বন ধ্বংসের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। এর ফলে বাড়ছে পাহাড় ধস, শুকিয়ে যাচ্ছে পানির প্রাকৃতিক উৎস এবং দেখা দিচ্ছে মারাত্মক জলবায়ু সংকট।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি—অবৈধভাবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে,বন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে,অবিলম্বে বন ধ্বংস বন্ধ করে নতুন করে বৃক্ষরোপণ এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল ফিরিয়ে আনতে হবে।

‎একটি গাছ কাটা মানে কেবল একটি গাছ হারানো নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যায় পাখির বাসা, প্রাণীর আশ্রয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি সবুজ পৃথিবী। প্রকৃতি ধ্বংসের এই মূল্য শুধু বর্তমান নয়, দিতে হবে আগামী প্রজন্মকেও। তাই সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই কাপ্তাইয়ের বন ও প্রকৃতি রক্ষায় জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখনই।

‎

জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাইয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎

প্রকাশিত: ০৫:২৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের পাহাড় মানেই ছিল একসময় ঘন সবুজ বন, জীববৈচিত্র্য আর বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই চিত্র এখন পুরোপুরি পাল্টে গেছে। নির্বিচারে গাছ কাটা আর নজরদারির অভাবে উজাড় হয়ে যাচ্ছে কাপ্তাইয়ের অমূল্য বনভূমি।
‎কাপ্তাই জেটিঘাটসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন শুধুই এক নির্মম সত্য—সামনে কিছু গাছপালা থাকলেও পেছনের পুরো অংশজুড়ে খালি পাহাড় আর ধ্বংসের ক্ষতচিহ্ন।

বনের এই করুণ দশার কারণে সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে পড়েছে বন্যপ্রাণী। হাতি, বানরসহ নানা প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণীর খাদ্য এবং নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। স্বাভাবিক পরিবেশ হারিয়ে এই বন্যপ্রাণীগুলো এখন লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসার ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে—যে বন রক্ষার মূল দায়িত্ব যাদের কাঁধে, সেই বনই যদি এভাবে উজাড় হতে থাকে, তবে প্রশ্ন জাগে: রক্ষকই কি তবে ভক্ষক!

পরিবেশবিদদের মতে, বন কেবল কাঠের উৎস নয়; এটি মাটি, পানি, বায়ু এবং জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা করে। পাহাড়ি অঞ্চলে বন ধ্বংসের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। এর ফলে বাড়ছে পাহাড় ধস, শুকিয়ে যাচ্ছে পানির প্রাকৃতিক উৎস এবং দেখা দিচ্ছে মারাত্মক জলবায়ু সংকট।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি—অবৈধভাবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে,বন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে,অবিলম্বে বন ধ্বংস বন্ধ করে নতুন করে বৃক্ষরোপণ এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল ফিরিয়ে আনতে হবে।

‎একটি গাছ কাটা মানে কেবল একটি গাছ হারানো নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যায় পাখির বাসা, প্রাণীর আশ্রয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি সবুজ পৃথিবী। প্রকৃতি ধ্বংসের এই মূল্য শুধু বর্তমান নয়, দিতে হবে আগামী প্রজন্মকেও। তাই সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই কাপ্তাইয়ের বন ও প্রকৃতি রক্ষায় জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখনই।

‎