রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে একটি পারিবারিক বিরোধের জেরে হওয়া অমীমাংসিত শালিস বৈঠকের জের ধরে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের চারজন ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার কাপ্তাই স্টোরের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—শিল্প এলাকার (সমিল এরিয়া) হক সাহেবের ছেলে রকিবুল ইসলাম ভুবন (২৪), মো. শহিদের ছেলে মো. মোজাম্মেল হোসেন বাবু (২২), এবং চিৎমরম মুসলিমপাড়ার মৃত নুর ইসলামের দুই ছেলে আবু জাফর (৪5) ও আবু হানিফ লিটন (৪০)। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে চিৎমরম মুসলিমপাড়ার নাছিমা আক্তার মোনার সঙ্গে বিলাইছড়ি উপজেলার ক্যাংড়াছড়ির ইসমাইল হোসেনের সামাজিক বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। কিন্তু দাম্পত্য জীবনে টিকটক ব্যবহার নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠক বসে।
গত দুই মাস আগে কাপ্তাই জেটি বাজারের আব্দুল কাদেরের ‘কুলিং কর্নারে’ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ছেলের পক্ষের এক নিকটাত্মীয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কোনো সুরাহা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। এরপর গত মাসের ২০ তারিখে আরও একটি বৈঠক পণ্ড হয়ে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, এসব পূর্বের অমীমাংসিত বৈঠক ও ক্ষোভের জের ধরেই আজ নতুন বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে কাপ্তাই থানার মোবাইল ডিউটি অফিসার এসআই মনতাজ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া আহতদের সুচিকিৎসা ও আইনগত প্রক্রিয়া তদারকি করতে পুলিশ হাসপাতালে অবস্থান করছে।
এ বিষয়ে কাপ্তাই থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।



















