ঢাকঢোলের বাদ্যি, কাঁসরের ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর হাজারো ভক্তের জয়ধ্বনিতে মুখরিত নদীর দুই পাড়। একদিকে বিদায়ের করুণ সুর, অন্যদিকে সম্প্রীতির অনন্য উৎসব—এমনই এক আবেগঘন পরিবেশে কর্ণফুলী নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের সকল আনুষ্ঠানিকতা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় কাপ্তাই উপজেলার নয়টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা নিয়ে বের করা হয় বর্ণাঢ্য নৌ র্যালি। নৌ শোভাযাত্রা শেষে কাপ্তাইয়ের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী নদীতে একে একে দেবীর বিসর্জন সম্পন্ন হয়।
বিকেল হতেই নদীর দু’তীরে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল নামে। দেবীকে বিদায় জানানোর এই ক্ষণে মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল যেমন আনন্দের মাতম, তেমনই শুভ বিজয়ার আবেগ স্পর্শ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের মন। অশ্রুসিক্ত নয়নে ভক্তরা আগামী বছর দেবীর পুনরায় আগমনের প্রার্থনা জানান।
এর আগে বিসর্জন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আনুষ্ঠানিকতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দুর্গাপূজা কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নয়, বরং এটি আমাদের অসাম্প্রদায়িক সার্বজনীন উৎসব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারাদেশে সম্প্রীতির আবহ বজায় রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এ উৎসব উদ্যাপন করেছেন।
অনুষ্ঠানে শিবু জলদাসের মনোমুগ্ধকর ঢোলবাদন এবং নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পুরো আয়োজনকে এক প্রাণবন্ত রূপ দেয়। কাপ্তাই উপজেলা পূজা উদ্যাপন সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক জগদীশ দাশের সভাপতিত্বে এবং প্রিয়তোষ ধর পিন্টুর স্বাগত বক্তব্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতা, পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে কর্ণফুলীর জলে দেবী দুর্গার বিসর্জনের মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটে কাপ্তাইয়ের এ বছরের শারদীয় আয়োজনের।



















