পার্বত্য রাঙ্গামাটির সীমান্তবেষ্টিত পর্যটন এলাকা সাজেকে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের সন্ত্রাসী কার্যক্রম, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং এলাকায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’। একই সঙ্গে সাজেকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক জীবন চাক এই প্রতিবাদ জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের আপামর জনগণ দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির প্রত্যাশা করে আসছে। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহলের সন্ত্রাস, অস্ত্রের মহড়া এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা সেই প্রত্যাশাকে বারবার ব্যাহত করছে। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনেরই সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার কোনো অধিকার নেই।
নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, সাজেকসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, অপহরণ, হুমকি ও সহিংস তৎপরতা জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এটি এলাকার শান্তি ও সামগ্রিক উন্নয়নকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব অপকর্মের সাথে জড়িতদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তাঁরা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, সাজেকের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে অনতিবিলম্বে সাধারণ মানুষের নিরাপদে চলাচল, বসবাস ও জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি যেকোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা জরুরি।
পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধের জোর দাবি জানিয়ে সম্প্রীতি জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনোই সহিংসতার বাহন হতে পারে না। সকল পক্ষকে সংযত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আশা প্রকাশ করা হয় যে, কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সাজেকবাসীকে আতঙ্কমুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে দেবে।



















