শীতের আগমনী বার্তার সাথে সাথেই পাহাড়ের স্থানীয় বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করেছে হরেক রকমের শীতকালীন সবজি। প্রকৃতির এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আগাম সবজি চাষ করে পানছড়িতে বাজিমাত করেছেন মো. মিরাজুল ইসলাম নামের এক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা।
পানছড়ি উপজেলার হাসান নগর গ্রামের মো. আবু তাহেরের ছেলে মিরাজুল চলতি মৌসুমে আগাম মুলা চাষে পান অভাবনীয় সাফল্য। শুধু মুলাতেই থেমে থাকেননি তিনি; বাড়তি মুনাফা ও বাজারের চাহিদার কথা ভেবে একই জমিতে চাষ করেছেন বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, বরবটি ও টমেটো।
সরেজমিনে হাসান নগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি সবুজ সবজি গাছে ভরে গেছে মিরাজুলের কৃষি জমি। নিজ মেধা ও কঠোর পরিশ্রমে তিনি গড়ে তুলেছেন এই স্বপ্নের সবজি খামার।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সংগ্রামশীল এই তরুণ বলেন, আমি খুব দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বেকার না বসে থেকে নিজের উদ্যোগে কৃষিকাজ শুরু করেছি। তবে পুঁজির অভাবে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও খামার বড় করতে পারছি না। সরকার বা ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ পেলে আমি নিজেকে একজন বড় মাপের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারতাম। পাশাপাশি কৃষি অফিস থেকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ ও কারিগরি সহায়তা পেলে বছরজুড়েই এখানে আগাম সবজি উৎপাদন সম্ভব।
এ বিষয়ে পানছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির জানান, আগাম সবজি চাষ বেশ ব্যয়বহুল হলেও মিরাজুল বেশ ভালো করছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাঁকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ব্যাংক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দ্রুত এগিয়ে এলে তা শুধু পানছড়ির অর্থনীতিকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং সারাদেশের সবজির চাহিদা মেটাতেও ভূমিকা রাখবে।



















