খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মানিকছড়ি উপজেলার ১নং মানিকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের রাজপাড়া গ্রামে তীব্র পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে বেশ কয়েকটি পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, ‘মারমা উন্নয়ন সংসদ’ নামক একটি সামাজিক সংগঠনের ভবন নির্মাণ এবং ত্রুটিপূর্ণ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে এই মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের পাশেই বসবাস করছেন কয়েকজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, যারা বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকছড়ি উপজেলা সদরে মারমা উন্নয়ন সংসদের ভবনের পানি চলাচলের জন্য সম্প্রতি পাহাড়ের একটি অংশ কাটা বা খনন করা হয়। এর ফলে পাহাড়ের ওই অংশের মাটি আলগা ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলায় টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ধসপ্রবণ পাহাড়ের পাদদেশ ও পানি যাওয়ার লাইনের ঠিক পাশেই গড়ে উঠেছে কতিপয় অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের বসতভিটা।
বর্ষার এই সময়ে পাহাড় ধসে পড়লে নিচের ঘরবাড়িগুলো মুহূর্তের মধ্যে মাটির নিচে চাপা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে, এলাকায় বসবাসকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পক্ষে যেকোনো জরুরি মুহূর্তে নিজে থেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া অসম্ভব। ফলে এখানে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত একটি সামাজিক সংগঠনের নিজস্ব কাজের জন্য স্থানীয় অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন এভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ায় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঝুঁকিতে থাকা পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন। তাদের মতে, মারমা উন্নয়ন সংসদ কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত প্রকৌশলীদের পরামর্শ নিয়ে একটি শক্ত প্রতিরোধ দেয়াল (Retaining Wall) নির্মাণ করা, যাতে পাহাড়ের মাটি আর ধসে না পড়ে। একই সাথে অসহায় পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানি চলাচলের জন্য বিকল্প ও নিরাপদ ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিকল্পনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সংগঠন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।



















