টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ধসের আতঙ্কে কাঁপছে রূপসী রাঙামাটি। কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে। জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে ছেড়েছেন নিজেদের ভিটেমাটি। জেলা প্রশাসনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৪ হাজার ৩৬৫ জন মানুষ বর্তমানে জেলার ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে কোনোমতে মাথা গুঁজেছেন।
এমন চরম দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে দুর্গত ও আশ্রয়হীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে পৌর এলাকার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম।
পরিদর্শনকালে জেলা পরিষদ সদস্য রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, লোকনাথ মন্দির, ভেদভেদি এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক ভবন আশ্রয়কেন্দ্রসহ শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি সাম্প্রতিক পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোও সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন হাবীব আজম। তাদের বর্তমান পরিস্থিতি, থাকা-খাওয়ার সুবিধা এবং নানা দুর্ভোগের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এই কঠিন সময়ে তাদের সাহস ও সান্ত্বনা দেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে রাঙামাটি জেলা পরিষদের মাধ্যমে পৌর এলাকার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
মো. হাবীব আজম, সদস্য, রাঙামাটি জেলা পরিষদ দুর্যোগের মাঝেও শিশুদের মুখে এক চিলতে হাসি
সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন পরিদর্শনের একপর্যায়ে জেলা পরিষদ সদস্য আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অবুঝ শিশুদের হাতে চকলেট তুলে দেন। আকস্মিক এই উপহার পেয়ে দুর্যোগের ভয় ভুলে শিশুদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে, যা সেখানে উপস্থিত সকলের মন ছুঁয়ে যায়।
পরিদর্শনকালে হাবীব আজমের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভেদভেদি পশ্চিম মুসলিম পাড়া সমাজ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ জয়, ভেদভেদি লোকনাথ মন্দিরের দপ্তর সম্পাদক রঞ্জিত দাশ, গ্রিন হিল স্পোর্টিং ক্লাবের আহ্বায়ক সাকিবুল হাসান সায়েমসহ ক্লাবের অন্য সদস্যবৃন্দ। তারা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর শৃঙ্খলা, দুর্গত মানুষের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তদারকি করেন এবং দুর্গতদের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো কাটেনি, বরং আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।



















