টানা ভারী বর্ষণ আর ধেয়ে আসা পাহাড়ধসের আতঙ্কে রাঙ্গামাটি জেলায় এখন এক ভয়াবহ ও মানবিক দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় হাজারো মানুষ তাদের চিরচেনা বসতভিটা ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এবং ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ৪ হাজার ৩৬৫ জন মানুষ বর্তমানে জেলার ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে তদারকি করতে দ্বিতীয় দিনের মতো মাঠে নেমেছেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর থেকে তিনি রাঙ্গামাটি পৌর এলাকার চরম পাহাড়ধসপ্রবণ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন।তবলছড়ি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন দুদক ভবনের পেছনের আবাসিক এলাকা, এডিসি হিল, ওমদা মিয়া পাহাড়, কর্মচারী কলোনি, ডিয়ার পার্ক, দেওয়ানপাড়া এবং ওয়াপদা কলোনি।
পরিদর্শনকালে হাবীব আজম ‘পুরাতন দুদক ভবন’ এবং ‘ওমদা মিয়া পৌর জুনিয়র হাই স্কুল’ আশ্রয়কেন্দ্রে যান। সেখানে আশ্রয় নেওয়া নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও পুরুষদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার খোঁজখবর নেন। দুর্গত মানুষের কষ্টের কথা শুনে তাদের সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বলেন: এই দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা প্রতিটি মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং যাব।
স্থানীয় সূত্র ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো কাটেনি, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার মাইকিং ও অনুরোধ করা হচ্ছে।
বর্তমানে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দিনরাত সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, পানি ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তারা নিরলস পরিশ্রম করছেন।
আজকের এই পরিদর্শনে জেলা পরিষদ সদস্যের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি ইয়ুথ মিশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ নয়ন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আশিক, জুবায়ের ইসলাম, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. রাকিব এবং সদস্য মো. সিয়াম। যুব সমাজের এই প্রতিনিধিরা আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেন।
দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে জনপ্রতিনিধি ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের পাশে পেয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও সাহস ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।



















