চুক্তি অনুযায়ী মানসম্মত বাচ্চা ও পোল্ট্রি ফিড (খাদ্য) সরবরাহ না করে খাগড়াছড়ির রামগড়ে এক খামারির সাথে চরম প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘সি পি কোম্পানি’র (CP Company) বিরুদ্ধে।
কোম্পানির খাগড়াছড়ি ব্রাঞ্চের এই অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে গত চার-পাঁচ মাস ধরে লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় এক ডিলার।
ভুক্তভোগী রামগড়ের ‘নাজমুল পোল্ট্রি’-র সত্যাধিকারী ও সি পি ইন্টিগ্রেশন ডিলার মো. সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সি পি কোম্পানির সাথে চুক্তি অনুযায়ী তিনি খামারে মুরগি পালন করে আসছিলেন। কিন্তু গত ৪-৫ মাস ধরে কোম্পানিটি তাকে অত্যন্ত নিম্নমানের পোল্ট্রি খাদ্য এবং রোগাক্রান্ত, দুর্বল বাচ্চা সরবরাহ করে আসছে, যা সরাসরি চুক্তিভঙ্গের শামিল।
সাধারণত ব্রয়লার মুরগির বয়স ৩৫ দিন হলে ওজন ২ কেজি বা তার বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু সি পি কোম্পানির নিম্নমানের ফিড ও বাচ্চার কারণে আমার খামারে ৩৫ দিন পার হওয়ার পরও মুরগির গড় ওজন আসছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম! এর ফলে গত ছয় মাস ধরে আমি শুধু লোকসানই গুনে যাচ্ছি। অর্থনৈতিকভাবে আমি এখন সম্পূর্ণ পঙ্গু হওয়ার পথে।
ভুক্তভোগী ডিলার সাইফুল ইসলাম আরও জানান, এই বিপর্যয়ের পর তিনি বারবার সি পি কোম্পানির খাগড়াছড়ি ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এই সংকটের কোনো স্থায়ী সুরাহা বা ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নেননি। নিরুপায় হয়ে সাইফুল ইসলাম সি পি কোম্পানির ইন্টিগ্রেশন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আনোয়ার সাহেবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ের খামারি ও ডিলারেরা সি পি কোম্পানির মতো বড় প্রতিষ্ঠানের এমন দায়িত্বহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে এই চুক্তিভঙ্গের সুষ্ঠু তদন্ত, নিম্নমানের ফিড ও বাচ্চা সরবরাহ বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ডিলারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।



















