দেবিদ্বারে ৪ আগস্টের রক্তঝরা দিন ও আহতদের বঞ্চনার গল্প ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট—কুমিল্লার দেবিদ্বারের ইতিহাসে এক রক্তঝরা ও করুণ অধ্যায়। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের লক্ষ্যে চলা সেই আন্দোলনে রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন দেবিদ্বারের আপামর জনতা। সেদিন কলেজ রোডসহ আশপাশের এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো হয় বর্বরোচিত হামলা ও ছররা গুলি। রাজপথ রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণ হারান অনেকে।
তবে সেই সংঘাতের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও দেবিদ্বারের রাজপথে বুলেট ও নির্যাতনের শিকার চার লড়াকু যোদ্ধার নাম এখনো ওঠেনি সরকারের চূড়ান্ত ‘জুলাই আহত’ কিংবা গেজেট তালিকায়। মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহের অভাব এবং প্রশাসনিক গাফিলতির কারণেই আজও তারা সরকারি গেজেট ও সহায়তার আওতাভুক্ত হতে পারেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বঞ্চিত এই চারজনের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতা, পেশাদার গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থী।
নাজমুল হাসান সরকার দেবিদ্বার উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব। আন্দোলন চলাকালে তার মাথা ও বুকসহ পুরো শরীরে মোট সাতটি গুলির স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। দীর্ঘ চিকিৎসাতেও শরীর থেকে সব স্প্লিন্টার বের করা সম্ভব হয়নি। শরীরে মারাত্মক যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটালেও সরকারি তালিকায় ঠাঁই হয়নি তার।
মেহেদী হাসান রিয়াদ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিংস্রতার শিকার হন এই স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী। ৪ আগস্ট সংবাদ সংগ্রহকালে হামলার শিকার হয়ে তার বাঁ কানের পর্দা ফেটে যায় এবং বাঁ পায়ের জয়েন্ট ভেঙে চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পঙ্গুত্ব ও বঞ্চনার শিকার হয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
কাজী ইয়াছিন ও মোড সোহাগ ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইয়াছিনের বাঁ হাতের বাহু ভেদ করে গুলি বেরিয়ে যায়। অন্যদিকে ১৮ বছর বয়সী সাধারণ শিক্ষার্থী মো. সোহাগের ডান হাত গুলির স্প্লিন্টারে ঝাঁঝরা হয়ে যায়। রাজনৈতিক পরিচয় না থাকা এবং তদারকির অভাবে এই শিক্ষার্থীদের নামও বাদ পড়েছে তালিকা থেকে। অর্থাভাবে ব্যাহত হচ্ছে তাদের সুচিকিৎসা।
স্থানীয়দের দাবি, কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সুবিধা নয়; বরং রাজপথে রক্ত দেওয়ার এই ঐতিহাসিক ত্যাগের যেন রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন হয়। দেবিদ্বারের সর্বস্তরের জনগণ ও সুশীল সমাজ অনতিবিলম্বে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে এই চার আহতকে দ্রুত সরকারি ‘জুলাই তালিকা’ ও গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।












