চারদিকে থৈ থৈ পানি, একটি ছোট ডিঙি নৌকা চলছে। নৌকায় বসে আছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম। নেপথ্যে মৃদু মিউজিক বা স্বাভাবিক পরিবেশের শব্দ।
শহরের বুকে যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ! পৌরসভার মানচিত্রে অবস্থান হলেও রাঙামাটি শহরের ৭নং ওয়ার্ডের সৈয়দ নগরের চারদিকে এখন থৈ থৈ পানি। নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এই এলাকার চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ আর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে এই দুর্গম এলাকার খোঁজখবর নেওয়ার মানুষ যেন ছিল না বললেই চলে। নৌকায় করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের হাতে ত্রাণের প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন হাবীব আজম। স্থানীয়দের মুখে স্বস্তির হাসি।
তবে সব প্রতিকূলতা জয় করে ভালোবাসার এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম। প্রথাগত নিয়মে এক জায়গায় লোক জড়ো করে ত্রাণ বিতরণের পথ মাড়াননি তিনি। বরং সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে নিজেই নৌকায় চড়ে হাজির হন পানিবন্দী অসহায় মানুষগুলোর দোরগোড়ায়।স্থানীয় এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির সাথে কথা বলছেন এবং খাদ্যসামগ্রী হস্তান্তর করছেন এই জনপ্রতিনিধি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের খাদ্যশস্য নিয়ে সৈয়দ নগর ও এর আশপাশের অর্ধশতাধিক পানিবন্দী পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজ হাতে ত্রাণ পৌঁছে দেন তিনি। দুর্যোগের এই দিনে নেতার এমন আন্তরিক উপস্থিতি ও দ্বারে দ্বারে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার ঘটনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এলাকাবাসী।এলাকাবাসীর সন্তোষ প্রকাশ ও বিদায় নেওয়ার দৃশ্য।
শহরের ভেতরে থেকেও যারা এতদিন ছিলেন আড়ালে ও অবহেলায়, তাদের দ্বারে পৌঁছানো এই ব্যতিক্রমী দায়িত্ববোধ স্থানীয় জনপদে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশ উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যে প্রকৃত জননেতার পরিচয়, সৈয়দ নগরের এই মানবিক চিত্র তারই এক উজ্জ্বল প্রমাণ।




















