কাপ্তাইয়ে বিশ্ব হাতি দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হাতির সংখ্যা বাড়লেও খাদ্যসংকট ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাত। হাতি রক্ষায় আবাসস্থল সংরক্ষণ ও চলাচলের করিডোর উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হাতির সংখ্যা বাড়লেও খাদ্যসংকট ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার কারণে প্রায়ই তা লোকালয়ে চলে আসছে। এতে বাড়ছে মানুষ ও হাতির মধ্যকার সংঘাত।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে আয়োজিত র্যালি ও আলোচনা সভায় এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জের আয়োজনে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কাপ্তাই বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী তথ্য অফিসার দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ এবং কর্ণফুলী রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার ফজলে রাব্বি সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান।
সভায় বক্তারা জানান, ২০২৪ সালে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে হাতির সংখ্যা ছিল ৩৬টি। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৪২ থেকে ৪৫টি হাতি রয়েছে। তবে বন উজাড় হওয়ার কারণে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস সংকুচিত হচ্ছে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে হাতি বাঁচানোর তাগিদ দিয়ে বক্তারা বলেন, হাতির চলাচলের করিডোরে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না এবং আবাসস্থল দখল বা ধ্বংস থেকে বিরত থাকতে হবে।
বক্তারা আরও সতর্ক করে বলেন, কোনো হাতি লোকালয়ে চলে এলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দিতে হবে। কৌতূহলবশত হাতির কাছাকাছি গিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে জীবনের ঝুঁকি না নেওয়ারও কড়া আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভার পূর্বে স্কুলশিক্ষার্থী, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও উপকারভোগীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সভা শেষে বিশ্ব হাতি দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১০০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার পাশাপাশি নতুন গাছ লাগিয়ে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




















