তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারের প্রথম দিনেই উৎপাদন ও রাজস্ব আদায়ে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে শুরু হয়েছে মাছ শিকার উৎসব। মাছ আহরণ চালুর প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হ্রদ থেকে ১৯৩ মেট্রিক টন মাছ অবতরণ করা হয়েছে, যা থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৪২ লাখ টাকা। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি বিপণন কেন্দ্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিএফডিসি রাঙামাটি অঞ্চলের ব্যবস্থাপক ফয়েজ আল করিম জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের প্রথম দিনের মাছ অবতরণ এবং রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। অনুকূল পানির স্তর এবং দীর্ঘ সময় মাছ শিকার বন্ধ থাকায় হ্রদে পর্যাপ্ত বড় আকারের কার্পজাতীয় মাছের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে চাপিলা ও কাচকি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে জেলে ও ব্যবসায়ীদের মাঝে
দীর্ঘ তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির হাজার হাজার জেলে ও মৎস্য শ্রমিক বেকার সময় পার করেছিলেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর থেকেই ঘাটগুলোতে নেমে এসেছে আনন্দের জোয়ার। বর্তমানে মাছ অবতরণ ঘাটগুলো পাইকারি ব্যবসায়ী, ক্রেতা এবং শ্রমিকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন, আবহাওয়া ও হ্রদের সার্বিক পরিবেশ যদি এভাবেই অনুকূলে থাকে, তবে চলতি মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদ থেকে রেকর্ড পরিমাণ মাছ আহরণ করা সম্ভব হবে। এটি একদিকে যেমন জেলে ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বাড়াবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়েও বড় ভূমিকা রাখবে।




















