দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার শুরু হলেও বিপাকে পড়েছেন জেলেরা। নায্যমূল্য না পেয়ে হাজার হাজার মণ ছোট মাছ পানিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মাঝে।
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ। প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির দীর্ঘ তিন মাস নিষেধাজ্ঞা শেষে হ্রদে মাছ শিকার শুরু হওয়া আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে জেলেদের চোখের জলে। উৎপাদিত মাছের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কয়েকশত ড্রাম ছোট মাছ মৎস্যঘাটের পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার হৃদয়বিদারক তথ্য পাওয়া গেছে।
হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি এবং মাছের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে গত কয়েক মাস ধরে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার পর জেলেরা নতুন উদ্যমে জাল ফেলেন হ্রদের জলে। ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ে ছোট মাছ। কিন্তু কূলের দেখা মিলতেই শুরু হয় বিপত্তি। পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকা, সিন্ডিকেট বাণিজ্য এবং বাজারে ছোট মাছের উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েন জেলেরা।
লাভ তো দূরের কথা, ট্রলার ভাড়া ও জালের খরচটুকুও তুলতে না পেরে ক্ষোভে ও দুঃখে মৎস্যঘাটের পানিতে কয়েকশত ড্রাম ছোট মাছ ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন তারা।
মাছ আহরণ খাতের সাথে জড়িত লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা এভাবে হুমকির মুখে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট বাজার ব্যবস্থাপনা এবং জেলেদের সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এবং জেলেদের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।




















