আগরবাগান সড়কে বন্য হাতির দল অবস্থান নেয়ায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে; আতশবাজি ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে হাতিগুলোকে নিরাপদে বনে ফিরিয়ে দেয় বন বিভাগ ও ইআরটি টিম।
রাঙামাটির কাপ্তাই-রাঙামাটি আগরবাগান সড়কে হঠাৎ বন্য হাতির একটি দলের দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টা অবস্থানের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় ও যাত্রীদের মাঝে। তবে বন বিভাগের সময়োপযোগী ও দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এবং হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছেন বহু যাত্রী।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে। ওই দিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কাপ্তাই-রাঙামাটি আগরবাগান সড়কের বিভিন্ন অংশে অবস্থান নেয় বন্য হাতির দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা হাতির উপস্থিতি দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমানের নেতৃত্বে বনকর্মী এবং এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা আতশবাজি ফোটে, ফাঁকা গুলি ছুড়ে এবং গাড়ির হর্ন ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে হাতির দলকে ধীরে ধীরে বনের গভীরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালান। এক পর্যায়ে হাতির দলকে সড়কের এক পাশ দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হলেও, তারা পরবর্তীতে আবার কাপ্তাই প্রবেশমুখে এসে সড়কে অবস্থান নেয়।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম সাজ্জাদ হোসেন। হাতির দল পুনরায় সড়কে চলে আসায় বন বিভাগ ও ইআরটি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এর ফলে সম্ভাব্য হাতির আক্রমণ ও বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে যান অসংখ্য যাত্রী।
রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই আসার পথে আকস্মিক হাতির মুখোমুখি হওয়া কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ জানান, হাতির কারণে এই সড়কে চলাচল বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি সন্ধ্যার পর এই সড়ক দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে, কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান এবং বরকল রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক স্বাধীন জানান, সন্ধ্যার পর কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কে বন্য হাতির নিয়মিত চলাচল থাকতে পারে। তাই জীবনের ঝুঁকি এড়াতে সন্ধ্যার পর কোনো যানবাহনকে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত না করার অনুরোধ জানিয়েছে বন বিভাগ।
রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পর কেউ যেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথে চলাচল না করেন। বন্য হাতির উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা আরও জানান, বন্য হাতির চলাচলের সময় সড়কে অযথা ভিড় না করে সর্বদা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং হাতিকে কোনোভাবেই উত্তেজিত না করার বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
কাপ্তাই-রাঙামাটি আগরবাগান সড়কে বন্য হাতির এমন নিয়মিত উপস্থিতিতে স্থানীয়দের মাঝে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় সন্ধ্যার পর সড়কে চলাচলকারীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি বন্য হাতির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।




















