তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত ও ইতিবাচক ধারায় রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই— প্রধান অতিথি আব্দুল আলিম, রাঙামাটিতে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাঙামাটি জেলা মাদ্রাসা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর ফাইনাল ম্যাচ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ঘিরে ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় রাঙামাটি আলফেসানী একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল ম্যাচ। খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো মাঠজুড়ে বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকের উপস্থিতিতে এক প্রাণচাঞ্চল্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙামাটি জেলা শাখার আমীর আব্দুল আলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাঙামাটি জেলা সভাপতি রবিউল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাঙামাটি জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাঙামাটি জেলা অর্থ সম্পাদক সাওবান, মাদ্রাসা শাখা সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান রাকিবসহ জেলা, শহর ও মাদ্রাসা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ।
খেলাটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আল-আমিন ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বাংলা প্রভাষক আব্দুর রহিম।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল আলিম বলেন, “তরুণ সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে। তাই তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এবং তরুণ সমাজের মাঝে সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
ম্যাচ শেষে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী পর্বে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা। এছাড়া টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় এবং সেরা গোলকিপারকেও বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। অতিথি ও আয়োজকদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণকালে খেলোয়াড় ও দর্শকদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে, যা একটি উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।




















