ক্লাসের ভেতর ৭২ জন সহপাঠীর লাইন। আর শিক্ষক বললেন, একেকজন এসে থাপড়াও! অমানবিক ও পৈশাচিক এই শাস্তির ঘটনা ঘটেছে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। শিক্ষক নিজেই ভুল স্বীকার করলেও এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ ‘রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’। গত ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার—এই বিদ্যালয়টির অষ্টম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষ যেন এক বিভীষিকাময় স্থানে পরিণত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাঈমূল হকের নির্দেশে অষ্টম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী—মেহেরাজ জিসান ও মিফতাহুল জান্নাতকে একই শ্রেণির ৭২ জন সহপাঠী মিলে থাপড়ায়
কিন্তু কেন এই নিষ্ঠুর শাস্তি জানা যায়, আগের দিন বিকেলে বিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয় জিসানের বিরুদ্ধে। আর মিফতাহুল জান্নাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল—সে নাকি অন্য এক ছেলে শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে।
তবে ঘটনার পর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আসল সত্য। অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভুক্তভোগী ওই দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতাই ছিল না, ভিত্তিহীন এক সন্দেহের বশে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো হয় এমন বর্বরোচিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।
ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত শিক্ষক নাঈমুল হক নিজের ভুল স্বীকার করে গণমাধ্যমের সামনে জানান—এটা আমার ভুল হয়েছে, অন্যায় হয়েছে। এ ঘটনার জন্য আমি অনুতপ্ত। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতাউল্লাহও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।তবে এতে ক্ষোভ থামেনি। আজ রোববার সকালে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সিকদার জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্কুলের চার দেয়ালের ভেতর এমন নিপীড়নমূলক শিক্ষকতা রোধে প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।




















