“শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়”—এই উদ্দীপনামূলক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির গুইমারায় সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়েছে জাতীয় কন্যা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে একটি প্রাণবন্ত আলোচনা সভা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গুইমারা উপজেলা সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসা. হাছিনা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহম্মদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, গুইমারা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অর্জুন নাথ এবং গুইমারা দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক নারী শিক্ষার্থী অংশ নেয়। মুক্ত আলোচনায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক, কন্যাশিশুর আইনি অধিকার, নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. তোফায়েল আহম্মদ বলেন,“বাল্যবিবাহ একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি, যা কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশকে স্তব্ধ করে দেয়। একটি শিশুর হাতে থাকার কথা বই-খাতা, অল্প বয়সে সংসারের ভার নয়। একটি মেয়েকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল করতে পারলে সে পরিবার ও দেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। তাই পরিবার, শিক্ষক ও সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, কন্যাশিশুর নিরাপদ পরিবেশ, ধারাবাহিক শিক্ষা এবং নিজস্ব স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দেওয়া সবার দায়িত্ব। বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও অভিভাবকদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
আলোচনা পর্ব শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। সমাপনীতে কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষা ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।




















