দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। হালদা নদী উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে আয়োজিত এক প্রেষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালায় বক্তারা জানান, অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে হালদার উজানে অবাধে বর্জ্য ফেলা, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে নদীটির জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
গত মঙ্গলবার সকালে মানিকছড়ির যোগ্যাছোলা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা মৎস্য দপ্তর এই উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালার আয়োজন করে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ড. সুমন বড়ুয়া।
কর্মশালায় বক্তারা উল্লেখ করেন, হালদার অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব এখনো নদীর তীরবর্তী অনেক মানুষের কাছে অজানা। অনেক ক্ষেত্রে প্রান্তিক কৃষকেরা কৃষিবিদদের পরামর্শ না নিয়ে ডিলারদের কথামতো জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যা বৃষ্টির জলে ধুয়ে হালদার পানিতে মিশে পানি মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এছাড়া অবৈধ কারেন্ট জাল, বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার এবং নদীতে বাঁধ নির্মাণের ফলে কার্প জাতীয় রুই-কাতলার স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।
কর্মশালায় হালদার উজান এলাকা যোগ্যাছোলা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অর্ধশতাধিক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক, মৎস্যচাষি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রিপন হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুর রাশেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ সচেতন হলে হালদা নদীর ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।




















