খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে নাক্রাইপাড়ায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর (সোমবার) সিন্দুকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা নাক্রাইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পেইনে সিন্দুকছড়ি জোন সদরের মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ক্যাপ্টেন এম সোহান আল মাহমুদের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।
ক্যাম্পেইনে পাহাড়ি অঞ্চলে ঋতু পরিবর্তনজনিত মৌসুমি রোগ—যেমন জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, বাত-ব্যথা, অ্যালার্জি ও চর্মরোগের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া ডায়রিয়া, আমাশয় ও টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক পরামর্শের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে এলাকার আনুমানিক ২০০ জন পাহাড়ি অসুস্থ মানুষ সরাসরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
মানবিক ও জনকল্যাণমূলক এই চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ২০ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি সিন্দুকছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নেহাত ফয়সাল, পিএসসি, জি। পরিদর্শনকালে উপস্থিত সুবিধাভোগী, জনপ্রতিনিধি ও ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে দলমত নির্বিশেষে সকলকে শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করতে হবে। পাহাড়ে শান্তির ধারা বজায় রাখতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় কারবারি, হেডম্যান, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নাক্রাইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। চিকিৎসাসেবা গ্রহণ শেষে স্থানীয় কারবারি ও বাসিন্দারা সিন্দুকছড়ি জোনের জোন কমান্ডারের নিকট এলাকায় রাত্রিকালীন আলোর জন্য ‘নাক্রাইপাড়া ত্রি-মোড়ে’ একটি সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) বাতি স্থাপন, স্থানীয় খালের ওপর একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের আবেদন জানান।
স্থানীয়দের দাবির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে জোন কমান্ডার আশ্বাস দেন যে, সিন্দুকছড়ি জোনের ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার আওতায় দ্রুততম সময়ে এসব দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুর্গম পার্বত্য এলাকার জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়ন, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ এবং পাহাড়ে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়।




















