খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় মাইসছড়ি ইউনিয়নে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় মাহফুজা আক্তার মনি নামের ১৮ বছর বয়সী এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে নিহতের পরিবার ও স্বামীর পরিবার। একদিকে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে বাপের বাড়ি, অন্যদিকে স্বামীর পরিবারের দাবি—গৃহবধূ নিজেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর রাতে মহালছড়ির মাইসছড়ি ইউনিয়নের নুনছড়ি গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহফুজা আক্তার মনি মহালছড়ি সদর ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকার মজিবুর রহমানের মেয়ে। তার স্বামী সুজন (২০) একই ইউনিয়নের নুনছড়ি গুচ্ছগ্রামের নুর আলমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক বা আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ নিহতের পরিবার। তাদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নেশাগ্রস্ত স্বামী সুজন ও তার পরিবারের সদস্যরা মাহফুজার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। তাদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়—পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার এই হত্যাকা দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে।
অন্যদিকে, স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে, গৃহবধূ নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে মহালছড়ি থানা পুলিশ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও সুরতহাল সম্পন্ন করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে মহালছড়ি থানায় চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বলছে, মামলার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



















