শিরোনামঃ
Logo কেংড়াছড়ি জোন উচ্চ বিদ্যালয়: রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ের শিক্ষার আলো ছড়াতে নতুন উদ্যোগ, স্থান পরিদর্শনে জেলা পরিষদ সদস্য Logo পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার বার্তা: রাঙ্গামাটিতে জেলা পুলিশের মাস্টার ও কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত Logo রাঙামাটি বায়তুশ শরফ মাদ্রাসায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উদযাপিত: নতুন প্রজন্মকে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান Logo সিন্দুকছড়ি জোনে মাসিক মতবিনিময় সভা: সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও অপপ্রচার রোধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান Logo সামরিক বাহিনীর মানবিক হাত: মানিকছড়ির পাহাড় ঘেঁষা দুর্গম জনপদে আশার আলো Logo মহালছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ‘আশিকা’: খাদ্য, শিক্ষা ও আশ্রয়ণ উপকরণ পেয়ে মুখে হাসির ঝিলিক Logo মহালছড়িতে ৩৫০ কৃষকের ঘরে আশার আলো: বিনামূল্যে মিলল সার ও বীজ Logo সেতু ঝুঁকিতে ফেলে মাটি সাবাড়! হাতেনাতে ধরে জরিমানা আদায় করলো ভ্রাম্যমাণ আদালত Logo মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য: উদ্ধার বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও ভারতীয় রুপি Logo আইনি ব্যাখ্যার পর ৯৩% মেধা ও ৭% কোটায় দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দাবি
পুরনো বছরের গ্লানি মুছে সম্প্রীতির বন্ধনে মেতেছে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো

হ্রদে ভাসল ফুল পাহাড়ে শুরু হলো রঙের উৎসব ‘বৈসাবি’

ভোরের সূর্যের প্রথম কিরণ যখন কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জলে আছড়ে পড়ল, তখনই হাজারো রঙিন ফুলের স্পর্শে জেগে উঠল পাহাড়। পুরনো বছরের দুঃখ আর গ্লানিকে গঙ্গার জলে বিসর্জন দিয়ে নতুন আবাহনে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু বা ‘বৈসাবি’।

রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোরে রাঙামাটির রাজবাড়ী ঘাটে ‘বৈসাবি উদযাপন কমিটি’র আয়োজনে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শত শত তরুণ-তরুণী ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে হ্রদের জলে ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে, গর্জনতলীতে ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত উৎসবে ফুল ভাসিয়ে ত্রিপুরাদের বৈসু উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ সদস্য সাগরিকা রোয়াজা।

পাহাড়ের প্রতিটি জাতিসত্তার কাছে এই উৎসবের নাম ভিন্ন হলেও আনন্দের সুর অভিন্ন। চাকমাদের ‘বিজু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’, ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’ আর তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’—সব মিলিয়ে পাহাড় এখন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া মুরংদের চাংক্রান, খুমীদের চাংলান, সাওতালদের পাতা এবং গুর্খাদের বিহু উৎসবে মুখর চারপাশ।

বৈসাবি উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার জানান, “আজ ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে উৎসবের শুরু। আগামীকাল ১৩ এপ্রিল পালিত হবে মূল বিজু, যার প্রধান আকর্ষণ হলো ঘরোয়াভাবে রান্না করা ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁজন’। ১৪ এপ্রিল ‘গোজ্যেপোজ্যে’ বিজুর মাধ্যমে উৎসব চললেও আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটি চিং হ্লা মং মারি স্টেডিয়ামে মারমাদের বর্ণিল ‘জলকেলি’ বা জলোৎসবের মধ্য দিয়ে এ বছরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

উৎসবের এই ক্ষণে পাহাড়ের মানুষের একমাত্র প্রার্থনা—সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন যেন আরও সুদৃঢ় হয়। পুরনো বছরের সকল জরা মুছে বিশ্ব যেন এক সুন্দর ও শান্তিময় আগামীর পথে এগিয়ে যায়, এই প্রত্যাশাই এখন প্রতিটি পাহাড়বাসীর কণ্ঠে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেংড়াছড়ি জোন উচ্চ বিদ্যালয়: রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ের শিক্ষার আলো ছড়াতে নতুন উদ্যোগ, স্থান পরিদর্শনে জেলা পরিষদ সদস্য

পুরনো বছরের গ্লানি মুছে সম্প্রীতির বন্ধনে মেতেছে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো

হ্রদে ভাসল ফুল পাহাড়ে শুরু হলো রঙের উৎসব ‘বৈসাবি’

প্রকাশিত: ০১:২৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ভোরের সূর্যের প্রথম কিরণ যখন কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জলে আছড়ে পড়ল, তখনই হাজারো রঙিন ফুলের স্পর্শে জেগে উঠল পাহাড়। পুরনো বছরের দুঃখ আর গ্লানিকে গঙ্গার জলে বিসর্জন দিয়ে নতুন আবাহনে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু বা ‘বৈসাবি’।

রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোরে রাঙামাটির রাজবাড়ী ঘাটে ‘বৈসাবি উদযাপন কমিটি’র আয়োজনে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শত শত তরুণ-তরুণী ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে হ্রদের জলে ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে, গর্জনতলীতে ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত উৎসবে ফুল ভাসিয়ে ত্রিপুরাদের বৈসু উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ সদস্য সাগরিকা রোয়াজা।

পাহাড়ের প্রতিটি জাতিসত্তার কাছে এই উৎসবের নাম ভিন্ন হলেও আনন্দের সুর অভিন্ন। চাকমাদের ‘বিজু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’, ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’ আর তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’—সব মিলিয়ে পাহাড় এখন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া মুরংদের চাংক্রান, খুমীদের চাংলান, সাওতালদের পাতা এবং গুর্খাদের বিহু উৎসবে মুখর চারপাশ।

বৈসাবি উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার জানান, “আজ ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে উৎসবের শুরু। আগামীকাল ১৩ এপ্রিল পালিত হবে মূল বিজু, যার প্রধান আকর্ষণ হলো ঘরোয়াভাবে রান্না করা ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁজন’। ১৪ এপ্রিল ‘গোজ্যেপোজ্যে’ বিজুর মাধ্যমে উৎসব চললেও আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটি চিং হ্লা মং মারি স্টেডিয়ামে মারমাদের বর্ণিল ‘জলকেলি’ বা জলোৎসবের মধ্য দিয়ে এ বছরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

উৎসবের এই ক্ষণে পাহাড়ের মানুষের একমাত্র প্রার্থনা—সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন যেন আরও সুদৃঢ় হয়। পুরনো বছরের সকল জরা মুছে বিশ্ব যেন এক সুন্দর ও শান্তিময় আগামীর পথে এগিয়ে যায়, এই প্রত্যাশাই এখন প্রতিটি পাহাড়বাসীর কণ্ঠে।