শিরোনামঃ
Logo কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎ Logo বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জমকালো গণসংবর্ধনা ‎ Logo কাপ্তাইয়ের ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চান প্রবাসী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ Logo দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে রোববারের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি একাদশ Logo হিল ভিডিপির উদ্যোগে দীঘিনালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo কাপ্তাইয়ে বরইছড়ি মুসলিম সমাজের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ‎ Logo রাঙামাটিতে ১৩তম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি ও কারিগরি বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ‎ Logo পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান—কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আলোচনা সভা Logo মহালছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে রেড ক্রিসেন্টের ফুড প্যাকেজ বিতরণ
পুরনো বছরের গ্লানি মুছে সম্প্রীতির বন্ধনে মেতেছে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো

হ্রদে ভাসল ফুল পাহাড়ে শুরু হলো রঙের উৎসব ‘বৈসাবি’

ভোরের সূর্যের প্রথম কিরণ যখন কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জলে আছড়ে পড়ল, তখনই হাজারো রঙিন ফুলের স্পর্শে জেগে উঠল পাহাড়। পুরনো বছরের দুঃখ আর গ্লানিকে গঙ্গার জলে বিসর্জন দিয়ে নতুন আবাহনে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু বা ‘বৈসাবি’।

রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোরে রাঙামাটির রাজবাড়ী ঘাটে ‘বৈসাবি উদযাপন কমিটি’র আয়োজনে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শত শত তরুণ-তরুণী ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে হ্রদের জলে ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে, গর্জনতলীতে ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত উৎসবে ফুল ভাসিয়ে ত্রিপুরাদের বৈসু উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ সদস্য সাগরিকা রোয়াজা।

পাহাড়ের প্রতিটি জাতিসত্তার কাছে এই উৎসবের নাম ভিন্ন হলেও আনন্দের সুর অভিন্ন। চাকমাদের ‘বিজু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’, ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’ আর তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’—সব মিলিয়ে পাহাড় এখন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া মুরংদের চাংক্রান, খুমীদের চাংলান, সাওতালদের পাতা এবং গুর্খাদের বিহু উৎসবে মুখর চারপাশ।

বৈসাবি উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার জানান, “আজ ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে উৎসবের শুরু। আগামীকাল ১৩ এপ্রিল পালিত হবে মূল বিজু, যার প্রধান আকর্ষণ হলো ঘরোয়াভাবে রান্না করা ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁজন’। ১৪ এপ্রিল ‘গোজ্যেপোজ্যে’ বিজুর মাধ্যমে উৎসব চললেও আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটি চিং হ্লা মং মারি স্টেডিয়ামে মারমাদের বর্ণিল ‘জলকেলি’ বা জলোৎসবের মধ্য দিয়ে এ বছরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

উৎসবের এই ক্ষণে পাহাড়ের মানুষের একমাত্র প্রার্থনা—সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন যেন আরও সুদৃঢ় হয়। পুরনো বছরের সকল জরা মুছে বিশ্ব যেন এক সুন্দর ও শান্তিময় আগামীর পথে এগিয়ে যায়, এই প্রত্যাশাই এখন প্রতিটি পাহাড়বাসীর কণ্ঠে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎

পুরনো বছরের গ্লানি মুছে সম্প্রীতির বন্ধনে মেতেছে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো

হ্রদে ভাসল ফুল পাহাড়ে শুরু হলো রঙের উৎসব ‘বৈসাবি’

প্রকাশিত: ০১:২৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ভোরের সূর্যের প্রথম কিরণ যখন কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জলে আছড়ে পড়ল, তখনই হাজারো রঙিন ফুলের স্পর্শে জেগে উঠল পাহাড়। পুরনো বছরের দুঃখ আর গ্লানিকে গঙ্গার জলে বিসর্জন দিয়ে নতুন আবাহনে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু বা ‘বৈসাবি’।

রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোরে রাঙামাটির রাজবাড়ী ঘাটে ‘বৈসাবি উদযাপন কমিটি’র আয়োজনে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শত শত তরুণ-তরুণী ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে হ্রদের জলে ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে, গর্জনতলীতে ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত উৎসবে ফুল ভাসিয়ে ত্রিপুরাদের বৈসু উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ সদস্য সাগরিকা রোয়াজা।

পাহাড়ের প্রতিটি জাতিসত্তার কাছে এই উৎসবের নাম ভিন্ন হলেও আনন্দের সুর অভিন্ন। চাকমাদের ‘বিজু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’, ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’ আর তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’—সব মিলিয়ে পাহাড় এখন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া মুরংদের চাংক্রান, খুমীদের চাংলান, সাওতালদের পাতা এবং গুর্খাদের বিহু উৎসবে মুখর চারপাশ।

বৈসাবি উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার জানান, “আজ ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে উৎসবের শুরু। আগামীকাল ১৩ এপ্রিল পালিত হবে মূল বিজু, যার প্রধান আকর্ষণ হলো ঘরোয়াভাবে রান্না করা ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁজন’। ১৪ এপ্রিল ‘গোজ্যেপোজ্যে’ বিজুর মাধ্যমে উৎসব চললেও আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটি চিং হ্লা মং মারি স্টেডিয়ামে মারমাদের বর্ণিল ‘জলকেলি’ বা জলোৎসবের মধ্য দিয়ে এ বছরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

উৎসবের এই ক্ষণে পাহাড়ের মানুষের একমাত্র প্রার্থনা—সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন যেন আরও সুদৃঢ় হয়। পুরনো বছরের সকল জরা মুছে বিশ্ব যেন এক সুন্দর ও শান্তিময় আগামীর পথে এগিয়ে যায়, এই প্রত্যাশাই এখন প্রতিটি পাহাড়বাসীর কণ্ঠে।