শিরোনামঃ
Logo কেংড়াছড়ি জোন উচ্চ বিদ্যালয়: রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ের শিক্ষার আলো ছড়াতে নতুন উদ্যোগ, স্থান পরিদর্শনে জেলা পরিষদ সদস্য Logo পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার বার্তা: রাঙ্গামাটিতে জেলা পুলিশের মাস্টার ও কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত Logo রাঙামাটি বায়তুশ শরফ মাদ্রাসায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উদযাপিত: নতুন প্রজন্মকে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান Logo সিন্দুকছড়ি জোনে মাসিক মতবিনিময় সভা: সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও অপপ্রচার রোধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান Logo সামরিক বাহিনীর মানবিক হাত: মানিকছড়ির পাহাড় ঘেঁষা দুর্গম জনপদে আশার আলো Logo মহালছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ‘আশিকা’: খাদ্য, শিক্ষা ও আশ্রয়ণ উপকরণ পেয়ে মুখে হাসির ঝিলিক Logo মহালছড়িতে ৩৫০ কৃষকের ঘরে আশার আলো: বিনামূল্যে মিলল সার ও বীজ Logo সেতু ঝুঁকিতে ফেলে মাটি সাবাড়! হাতেনাতে ধরে জরিমানা আদায় করলো ভ্রাম্যমাণ আদালত Logo মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য: উদ্ধার বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও ভারতীয় রুপি Logo আইনি ব্যাখ্যার পর ৯৩% মেধা ও ৭% কোটায় দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দাবি
ছয় ইঞ্চির ঢালাইয়েও অনিয়ম, গণপূর্তের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন; তদন্তের আশ্বাস প্রকৌশলীর

লংগদু মডেল মসজিদে নির্মাণকাজে শুভঙ্করের ফাঁকি খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে এলাকাবাসী

রাঙামাটির লংগদুতে সরকারি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ‘মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নির্মাণে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উদ্বোধনের আগেই মসজিদের বিভিন্ন অংশের কংক্রিট খসে পড়ছে, বেরিয়ে এসেছে ইটের গাঁথুনি। যা সরকারের এই মহতী উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও প্লাস্টার খসে পড়ার চিহ্ন। নিয়ম অনুযায়ী ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৬ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। মেঝে কোথাও ৪ ইঞ্চি আবার কোথাও ৬ ইঞ্চি উঁচু-নিচু হয়ে আছে। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে দোতলায়, যেখানে ফ্লোরের মাঝখান ৪-৫ ইঞ্চি ডেবে গেছে। এতে ভবনটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বাইট্টাপাড়া জামে মসজিদের সেক্রেটারি জনাব বাবুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুরু থেকেই বালু, রড ও নির্মাণ সামগ্রীর মান নিয়ে আমরা সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে বারবার জানিয়েছি। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা গণপূর্ত বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের উদাসীনতায় আজ এই দশা।

স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো হলো- বালি ও সিমেন্টের মিশ্রণে ব্যাপক কারচুপি,পিলারগুলোর জয়েন্ট সঠিকভাবে না মেলানো, মিশ্রণ সঠিক না হওয়ায় ঢালাইয়ের ভেতর থেকে পাথর বেরিয়ে থাকা, ঢালাইয়ের পর দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় রডে মরিচা ধরা। নির্ধারিত মান ও সংখ্যার রড ব্যবহারে অবহেলা।

অনিয়মের বিষয়ে মসজিদের বর্তমান ম্যানেজার পলাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, এই কাজ আমার যোগদানের আগে হয়েছে। দায়িত্বরত মিস্ত্রিদের ওপর দোষ চাপিয়ে তিনি নিজের দায় সারার চেষ্টা করেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ঠিকাদার মোঃ সেলিম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো এলাকাবাসীর ওপর দোষারোপ করেছেন। তবে গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী জানিয়েছেন, নির্মাণাধীন মসজিদে সার্বক্ষণিক একজন প্রকৌশলী দায়িত্বরত থাকার কথা। তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ধর্মপ্রাণ মানুষের ইবাদতের এই পবিত্র স্থানটি যথাযথ মান বজায় রেখে দ্রুত সংস্কার করা হবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন লংগদুবাসী।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কেংড়াছড়ি জোন উচ্চ বিদ্যালয়: রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ের শিক্ষার আলো ছড়াতে নতুন উদ্যোগ, স্থান পরিদর্শনে জেলা পরিষদ সদস্য

ছয় ইঞ্চির ঢালাইয়েও অনিয়ম, গণপূর্তের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন; তদন্তের আশ্বাস প্রকৌশলীর

লংগদু মডেল মসজিদে নির্মাণকাজে শুভঙ্করের ফাঁকি খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রকাশিত: ০৫:৫৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

রাঙামাটির লংগদুতে সরকারি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ‘মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নির্মাণে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উদ্বোধনের আগেই মসজিদের বিভিন্ন অংশের কংক্রিট খসে পড়ছে, বেরিয়ে এসেছে ইটের গাঁথুনি। যা সরকারের এই মহতী উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও প্লাস্টার খসে পড়ার চিহ্ন। নিয়ম অনুযায়ী ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৬ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। মেঝে কোথাও ৪ ইঞ্চি আবার কোথাও ৬ ইঞ্চি উঁচু-নিচু হয়ে আছে। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে দোতলায়, যেখানে ফ্লোরের মাঝখান ৪-৫ ইঞ্চি ডেবে গেছে। এতে ভবনটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বাইট্টাপাড়া জামে মসজিদের সেক্রেটারি জনাব বাবুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুরু থেকেই বালু, রড ও নির্মাণ সামগ্রীর মান নিয়ে আমরা সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে বারবার জানিয়েছি। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা গণপূর্ত বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের উদাসীনতায় আজ এই দশা।

স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো হলো- বালি ও সিমেন্টের মিশ্রণে ব্যাপক কারচুপি,পিলারগুলোর জয়েন্ট সঠিকভাবে না মেলানো, মিশ্রণ সঠিক না হওয়ায় ঢালাইয়ের ভেতর থেকে পাথর বেরিয়ে থাকা, ঢালাইয়ের পর দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় রডে মরিচা ধরা। নির্ধারিত মান ও সংখ্যার রড ব্যবহারে অবহেলা।

অনিয়মের বিষয়ে মসজিদের বর্তমান ম্যানেজার পলাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, এই কাজ আমার যোগদানের আগে হয়েছে। দায়িত্বরত মিস্ত্রিদের ওপর দোষ চাপিয়ে তিনি নিজের দায় সারার চেষ্টা করেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ঠিকাদার মোঃ সেলিম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো এলাকাবাসীর ওপর দোষারোপ করেছেন। তবে গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী জানিয়েছেন, নির্মাণাধীন মসজিদে সার্বক্ষণিক একজন প্রকৌশলী দায়িত্বরত থাকার কথা। তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ধর্মপ্রাণ মানুষের ইবাদতের এই পবিত্র স্থানটি যথাযথ মান বজায় রেখে দ্রুত সংস্কার করা হবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন লংগদুবাসী।