শিরোনামঃ
Logo কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎ Logo বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জমকালো গণসংবর্ধনা ‎ Logo কাপ্তাইয়ের ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চান প্রবাসী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ Logo দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে রোববারের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি একাদশ Logo হিল ভিডিপির উদ্যোগে দীঘিনালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo কাপ্তাইয়ে বরইছড়ি মুসলিম সমাজের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ‎ Logo রাঙামাটিতে ১৩তম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি ও কারিগরি বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ‎ Logo পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান—কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আলোচনা সভা Logo মহালছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে রেড ক্রিসেন্টের ফুড প্যাকেজ বিতরণ
ছয় ইঞ্চির ঢালাইয়েও অনিয়ম, গণপূর্তের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন; তদন্তের আশ্বাস প্রকৌশলীর

লংগদু মডেল মসজিদে নির্মাণকাজে শুভঙ্করের ফাঁকি খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে এলাকাবাসী

রাঙামাটির লংগদুতে সরকারি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ‘মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নির্মাণে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উদ্বোধনের আগেই মসজিদের বিভিন্ন অংশের কংক্রিট খসে পড়ছে, বেরিয়ে এসেছে ইটের গাঁথুনি। যা সরকারের এই মহতী উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও প্লাস্টার খসে পড়ার চিহ্ন। নিয়ম অনুযায়ী ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৬ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। মেঝে কোথাও ৪ ইঞ্চি আবার কোথাও ৬ ইঞ্চি উঁচু-নিচু হয়ে আছে। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে দোতলায়, যেখানে ফ্লোরের মাঝখান ৪-৫ ইঞ্চি ডেবে গেছে। এতে ভবনটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বাইট্টাপাড়া জামে মসজিদের সেক্রেটারি জনাব বাবুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুরু থেকেই বালু, রড ও নির্মাণ সামগ্রীর মান নিয়ে আমরা সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে বারবার জানিয়েছি। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা গণপূর্ত বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের উদাসীনতায় আজ এই দশা।

স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো হলো- বালি ও সিমেন্টের মিশ্রণে ব্যাপক কারচুপি,পিলারগুলোর জয়েন্ট সঠিকভাবে না মেলানো, মিশ্রণ সঠিক না হওয়ায় ঢালাইয়ের ভেতর থেকে পাথর বেরিয়ে থাকা, ঢালাইয়ের পর দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় রডে মরিচা ধরা। নির্ধারিত মান ও সংখ্যার রড ব্যবহারে অবহেলা।

অনিয়মের বিষয়ে মসজিদের বর্তমান ম্যানেজার পলাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, এই কাজ আমার যোগদানের আগে হয়েছে। দায়িত্বরত মিস্ত্রিদের ওপর দোষ চাপিয়ে তিনি নিজের দায় সারার চেষ্টা করেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ঠিকাদার মোঃ সেলিম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো এলাকাবাসীর ওপর দোষারোপ করেছেন। তবে গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী জানিয়েছেন, নির্মাণাধীন মসজিদে সার্বক্ষণিক একজন প্রকৌশলী দায়িত্বরত থাকার কথা। তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ধর্মপ্রাণ মানুষের ইবাদতের এই পবিত্র স্থানটি যথাযথ মান বজায় রেখে দ্রুত সংস্কার করা হবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন লংগদুবাসী।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎

ছয় ইঞ্চির ঢালাইয়েও অনিয়ম, গণপূর্তের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন; তদন্তের আশ্বাস প্রকৌশলীর

লংগদু মডেল মসজিদে নির্মাণকাজে শুভঙ্করের ফাঁকি খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রকাশিত: ০৫:৫৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

রাঙামাটির লংগদুতে সরকারি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ‘মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নির্মাণে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উদ্বোধনের আগেই মসজিদের বিভিন্ন অংশের কংক্রিট খসে পড়ছে, বেরিয়ে এসেছে ইটের গাঁথুনি। যা সরকারের এই মহতী উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও প্লাস্টার খসে পড়ার চিহ্ন। নিয়ম অনুযায়ী ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৬ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। মেঝে কোথাও ৪ ইঞ্চি আবার কোথাও ৬ ইঞ্চি উঁচু-নিচু হয়ে আছে। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে দোতলায়, যেখানে ফ্লোরের মাঝখান ৪-৫ ইঞ্চি ডেবে গেছে। এতে ভবনটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বাইট্টাপাড়া জামে মসজিদের সেক্রেটারি জনাব বাবুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুরু থেকেই বালু, রড ও নির্মাণ সামগ্রীর মান নিয়ে আমরা সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে বারবার জানিয়েছি। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা গণপূর্ত বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের উদাসীনতায় আজ এই দশা।

স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো হলো- বালি ও সিমেন্টের মিশ্রণে ব্যাপক কারচুপি,পিলারগুলোর জয়েন্ট সঠিকভাবে না মেলানো, মিশ্রণ সঠিক না হওয়ায় ঢালাইয়ের ভেতর থেকে পাথর বেরিয়ে থাকা, ঢালাইয়ের পর দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় রডে মরিচা ধরা। নির্ধারিত মান ও সংখ্যার রড ব্যবহারে অবহেলা।

অনিয়মের বিষয়ে মসজিদের বর্তমান ম্যানেজার পলাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, এই কাজ আমার যোগদানের আগে হয়েছে। দায়িত্বরত মিস্ত্রিদের ওপর দোষ চাপিয়ে তিনি নিজের দায় সারার চেষ্টা করেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ঠিকাদার মোঃ সেলিম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো এলাকাবাসীর ওপর দোষারোপ করেছেন। তবে গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী জানিয়েছেন, নির্মাণাধীন মসজিদে সার্বক্ষণিক একজন প্রকৌশলী দায়িত্বরত থাকার কথা। তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ধর্মপ্রাণ মানুষের ইবাদতের এই পবিত্র স্থানটি যথাযথ মান বজায় রেখে দ্রুত সংস্কার করা হবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন লংগদুবাসী।