শিরোনামঃ
Logo মহালছড়িতে শিক্ষার্থীদের ‘স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত Logo বিজ্ঞানের জয়গান মানিকছড়িতে: শিক্ষার্থীদের চমকপ্রদ উদ্ভাবনী মেলা Logo কেন্দ্রীয় সাইবার দলের সহ-প্রচার সম্পাদক হলেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান রিয়াদ Logo ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড রামগড়: ২০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মুখে হাসল ‘ত্রাণের চাল’ Logo ২ মাস ধরে ইউএনওহীন মহালছড়ি: অভিভাবকহীন উপজেলায় স্থবিরতা, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ Logo দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী পদে ফেরানোর দাবিতে উত্তাল খাগড়াছড়ি: কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি Logo আর্থিক অসুবিধায় থাকা কৃষকের পাশে ছাত্রদল, ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন নেতাকর্মীরা Logo রাস্তার ওপরই রাখা হচ্ছে শত শত কেরেট; ট্রাফিক আইন তোয়াক্কা না করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও দূরপাল্লার চালকেরা। Logo ৩ মাসের মাথায় পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, মন্ত্রণালয়ে হস্তক্ষেপ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে উত্তাল পরিস্থিতি Logo আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে গোপন আঁতাত ও চাঁদাবাজি, উত্তপ্ত রাঙ্গামাটি বিএনপি
দুর্গম এলাকায় দুপুরের মধ্যেই ঝুলে যায় তালা, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম; ক্ষুব্ধ সচেতন মহল ও অভিভাবকরা।

দুপুরে বন্ধ স্কুল, বিকেলেও উড়ছে জাতীয় পতাকা মানিকছড়ির ফকিরনালা প্রাথমিকে শিক্ষার আলো নাকি শুভঙ্করের ফাঁকি

দুপুর গড়াতেই স্কুল ঘরে ঝুলছে তালা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কারো দেখা নেই চারপাশ জুড়ে। অথচ বিদ্যালয়ের শূন্য আঙ্গিনায় ঠিকঠাকই উড়ছে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুপুরের মধ্যেই বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার এমন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মানিকছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ‘ফকিরনালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’।

আজ ১৭ই মে রবিবার, যথানিয়মে বিদ্যালয় খোলা থাকার কথা থাকলেও দুপুরের মধ্যেই অঘোষিতভাবে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় ফকিরনালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নিয়ম অনুযায়ী বিকেল পর্যন্ত পতাকা উত্তোলিত থাকার পর তা নামানোর কথা থাকলেও, স্কুল বন্ধ হওয়ার পরও বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পতাকা উড়তে দেখেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্কুলটি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় শিক্ষকরা প্রায়শই নিজেদের ইচ্ছামতো দুপুরের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করে চলে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্কুল কখন খোলে আর কখন বন্ধ হয়, তার কোনো ঠিক নেই। শিক্ষকরা ঠিকমতো না আসলে আমাদের ছেলেমেয়েরা কী শিখবে, স্কুল ফাঁকি দেওয়ার এই অভিনব চিত্র সামনে আসতেই পুরো উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। স্কুল বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিকেল পর্যন্ত পতাকা ওড়ার এই ঘটনাটির পর প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমের গুণগত মান নিয়ে।

সচেতন মহলের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলোতে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির অভাবে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তড়িঘড়ি করে স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার এই সংস্কৃতি পাহাড়ের প্রান্তিক শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুর্গম ফকিরনালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই “পতাকা রহস্য” এবং অকালে স্কুল বন্ধের নেপথ্যে আসল কারণ কী, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহালছড়িতে শিক্ষার্থীদের ‘স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত

দুর্গম এলাকায় দুপুরের মধ্যেই ঝুলে যায় তালা, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম; ক্ষুব্ধ সচেতন মহল ও অভিভাবকরা।

দুপুরে বন্ধ স্কুল, বিকেলেও উড়ছে জাতীয় পতাকা মানিকছড়ির ফকিরনালা প্রাথমিকে শিক্ষার আলো নাকি শুভঙ্করের ফাঁকি

প্রকাশিত: ১২:১১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

দুপুর গড়াতেই স্কুল ঘরে ঝুলছে তালা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কারো দেখা নেই চারপাশ জুড়ে। অথচ বিদ্যালয়ের শূন্য আঙ্গিনায় ঠিকঠাকই উড়ছে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুপুরের মধ্যেই বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার এমন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মানিকছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ‘ফকিরনালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’।

আজ ১৭ই মে রবিবার, যথানিয়মে বিদ্যালয় খোলা থাকার কথা থাকলেও দুপুরের মধ্যেই অঘোষিতভাবে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় ফকিরনালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নিয়ম অনুযায়ী বিকেল পর্যন্ত পতাকা উত্তোলিত থাকার পর তা নামানোর কথা থাকলেও, স্কুল বন্ধ হওয়ার পরও বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পতাকা উড়তে দেখেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্কুলটি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় শিক্ষকরা প্রায়শই নিজেদের ইচ্ছামতো দুপুরের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করে চলে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্কুল কখন খোলে আর কখন বন্ধ হয়, তার কোনো ঠিক নেই। শিক্ষকরা ঠিকমতো না আসলে আমাদের ছেলেমেয়েরা কী শিখবে, স্কুল ফাঁকি দেওয়ার এই অভিনব চিত্র সামনে আসতেই পুরো উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। স্কুল বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিকেল পর্যন্ত পতাকা ওড়ার এই ঘটনাটির পর প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমের গুণগত মান নিয়ে।

সচেতন মহলের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলোতে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির অভাবে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তড়িঘড়ি করে স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার এই সংস্কৃতি পাহাড়ের প্রান্তিক শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুর্গম ফকিরনালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই “পতাকা রহস্য” এবং অকালে স্কুল বন্ধের নেপথ্যে আসল কারণ কী, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।