খাগড়াছড়ির রামগড়ে জুলাই আন্দোলনের এক শহিদ পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৩) ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওমর ফারুক (৪০) ভিকটিমের এক সহপাঠিনীর বাবা এবং পেশায় একজন চা দোকানদার। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে।শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ভিকটিমের মামা বাদী হয়ে রামগড় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভিকটিমের আত্মীয় এবং জুলাই শহিদ মজিদের বড় ভাই মো. মঈন জানান, উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের থলিপাড়া এলাকায় নানিরবাড়িতে থাকত ভিকটিম। শুক্রবার দুপুরে সে রান্নাঘরে একাকী কাজ করছিল। ওই সময় ভিকটিমের নানি বাড়ির পাশের একটি জলাশয়ে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছিলেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা রামগড়ে এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
ঠিক এই সুযোগে, জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিবেশী ওমর ফারুক রান্নাঘরে ঢুকে ওই ছাত্রীকে প্রথমে কুপ্রস্তাব দেয়। কিশোরীটি তাৎক্ষণিক সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ওমর ফারুক তাকে জড়িয়ে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। টেনে-হেঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলা হয় তার পরনের কাপড়। একপর্যায়ে ভিকটিম চিৎকার শুরু করলে লোকলজ্জা ও ধরা পড়ার ভয়ে ওমর ফারুক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: নাজির আলম জানান, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ভিকটিমের মামা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। পুলিশ আসামিকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাচ্ছে।
শহিদ পরিবারের ওপর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভিকটিমের পরিবার।



















