শিরোনামঃ
Logo রামগড়ে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির রশিদসহ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক Logo কাপ্তাইয়ে চেকপোস্টে পুলিশের জালে ইয়াবাসহ আটক ১ Logo পানছড়িতে বৈধ ইজারাদারদের তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির শঙ্কা Logo কাপ্তাইয়ে ৫ পিস ইয়াবাসহ চাকমা যুবক আটক, মোটরসাইকেল জব্দ Logo মহালছড়িতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত: ‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন’ স্লোগানে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা Logo মানিকছড়িতে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত: ৪ উদ্যোক্তাকে যুব ঋণের চেক ও সনদ বিতরণ Logo রাঙামাটির বনরূপায় যাত্রা শুরু করলো নতুন মোবাইল শপ ‘অল ইন ওয়ান বাই এক্সচেঞ্জ’ Logo তৃণমূলের ঐক্য শক্তিশালী করতে উদ্যমী মাইসছড়ি ইউনিয়ন বিএনপি: উপজেলা নেতৃবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভা Logo কাপ্তাইয়ে জাতীয় যুব দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা: ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ Logo মহালছড়িতে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত: নবারুণ সংঘ পেল ৭৫ হাজার টাকার অনুদান
২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা; ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাজীবন লাটে, ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অফিস ঘেরাওয়ের আলটিমেটাম

বিদ্যুৎ যেন ‘আসা-যাওয়ার খেলা’: নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত খাগড়াছড়ি ও মানিকছড়ি

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা, মানিকছড়ি এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার সিংহভাগ সময়ই বিদ্যুৎহীন থাকছে এই অঞ্চল। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ এখন আর যায় না, বরং মাঝে মাঝে ‘ভুল করে’ আসে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তাও আবার কিছুক্ষণ পর পরই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিশেষ করে রাতের বেলা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভুগছেন। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও জরুরি চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

মানিকছড়ি উপজেলার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে। ফ্রিজে রাখা পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। কম্পিউটারভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠান, ফটোকপি ও ডিজিটাল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্ষুদ্র শিল্প ও উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো উৎপাদন শেষ করতে না পেরে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মাঝারি ও ক্ষুদ্র খামারগুলোতে। খামার মালিকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো পশুপাখির খাবার প্রস্তুত এবং খামারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে গবাদিপশু ও মুরগির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এতে খামারিদের উৎপাদন যেমন কমছে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সন্তানরা পড়ার টেবিলে মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। পরীক্ষার সময় বিকল্প আলোর ব্যবস্থা করতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও ইন্টারনেট-নির্ভর পড়ালেখা পুরোপুরি থমকে গেছে। রাতে ঘুমাতে না পারায় দিনের বেলা ক্লাসেও তারা মনোযোগ দিতে পারছে না।

বৈষম্যের অভিযোগ ও বিদ্যুৎ অফিসের বক্তব্য
এলাকাবাসীর দাবি, খাগড়াছড়ির অন্যান্য এলাকার তুলনায় মানিকছড়ি উপজেলায় বৈষম্যমূলকভাবে বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে। অথচ নিয়মিত বিদ্যুৎ না পেলেও প্রতি মাসে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ বিল।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ জানায়, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংকট এবং চাহিদা ৫-৫.৫ এর তুলনায় বরাদ্দ কম ১-১.৫ পাওয়ার কারণেই এই মুহূর্তে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত এই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে খাগড়াছড়ি ও মানিকছড়িতে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে তারা বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগড়ে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির রশিদসহ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক

২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা; ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাজীবন লাটে, ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অফিস ঘেরাওয়ের আলটিমেটাম

বিদ্যুৎ যেন ‘আসা-যাওয়ার খেলা’: নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত খাগড়াছড়ি ও মানিকছড়ি

প্রকাশিত: ০৯:০২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা, মানিকছড়ি এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার সিংহভাগ সময়ই বিদ্যুৎহীন থাকছে এই অঞ্চল। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ এখন আর যায় না, বরং মাঝে মাঝে ‘ভুল করে’ আসে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তাও আবার কিছুক্ষণ পর পরই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিশেষ করে রাতের বেলা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভুগছেন। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও জরুরি চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

মানিকছড়ি উপজেলার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে। ফ্রিজে রাখা পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। কম্পিউটারভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠান, ফটোকপি ও ডিজিটাল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্ষুদ্র শিল্প ও উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো উৎপাদন শেষ করতে না পেরে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মাঝারি ও ক্ষুদ্র খামারগুলোতে। খামার মালিকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো পশুপাখির খাবার প্রস্তুত এবং খামারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে গবাদিপশু ও মুরগির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এতে খামারিদের উৎপাদন যেমন কমছে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সন্তানরা পড়ার টেবিলে মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। পরীক্ষার সময় বিকল্প আলোর ব্যবস্থা করতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও ইন্টারনেট-নির্ভর পড়ালেখা পুরোপুরি থমকে গেছে। রাতে ঘুমাতে না পারায় দিনের বেলা ক্লাসেও তারা মনোযোগ দিতে পারছে না।

বৈষম্যের অভিযোগ ও বিদ্যুৎ অফিসের বক্তব্য
এলাকাবাসীর দাবি, খাগড়াছড়ির অন্যান্য এলাকার তুলনায় মানিকছড়ি উপজেলায় বৈষম্যমূলকভাবে বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে। অথচ নিয়মিত বিদ্যুৎ না পেলেও প্রতি মাসে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ বিল।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ জানায়, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংকট এবং চাহিদা ৫-৫.৫ এর তুলনায় বরাদ্দ কম ১-১.৫ পাওয়ার কারণেই এই মুহূর্তে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত এই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে খাগড়াছড়ি ও মানিকছড়িতে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে তারা বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।