শিরোনামঃ
Logo কাপ্তাইয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত: বিএনপির র‍্যালি ও আলোচনা সভা Logo সমবায়ের হাত ধরে সমৃদ্ধির পথে মহালছড়ি: ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত Logo কাপ্তাইয়ে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত: ‘সমবায়ের আলোয় গড়ব স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ Logo সাজেকে সেনাবাহিনীর সফল অভিযান: দেশীয় অস্ত্র ও চাঁদা আদায়ের সরঞ্জামসহ গোলাবারুদ উদ্ধার Logo সাজেকে সেনাবাহিনীর সফল অভিযান: দেশীয় অস্ত্র ও চাঁদা আদায়ের সরঞ্জামসহ গোলাবারুদ উদ্ধার Logo বান্দরবানে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত Logo মহালছড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত Logo কাপ্তাইয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত Logo রাঙামাটিতে কোতয়ালী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার ৭ Logo রাজপথের পরীক্ষিত লড়াই থেকে ভোটের ময়দানে: ভিপি শাহীনের জন্মদিনে নেতাকর্মীদের উল্লাস
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রশাসনের যৌথ অভিযান ও মাইকিং; ৯টি ওয়ার্ডে খোলা হয়েছে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র

টানা বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড রাঙামাটি: পাহাড় ধস ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ জনের মৃত্যু, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

টানা কয়েকদিনের অবিরাম ভারী বর্ষণে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় এক ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস, গাছ উপড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পৃথক ঘটনায় দুইজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ইতিমধ্যে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে জেলা প্রশাসন, রাঙামাটি পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ যৌথ টিম মাঠে নেমেছে। তারা পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অত্যন্ত ঝুঁকিতে বসবাসরত মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য জোরদার মাইকিং ও আহ্বান জানাচ্ছে।

বাঘাইছড়ি পৌরসভার পশ্চিম লাইল্যাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে লক্ষী বিলাশ চাকমা (৬০) নামে এক ব্যক্তির করুণ মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্থানীয় দ্রোণাচার্য চাকমার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতের টানা বৃষ্টিতে তাদের বসতঘরের পাশের পাহাড়ের মাটি ধসে পড়েছিল। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে লক্ষী বিলাশ চাকমা সেই ধসে পড়া মাটি সরাতে গেলে ওপর থেকে পুনরায় গাছের গুঁড়িসহ বিশাল মাটির স্তূপ তার গায়ের ওপর ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

ঘটনার পর বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান এবং বাঘাইছড়ি থানার এসআই রিয়াজুল ইসলাম রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন এবং নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে লংগদু উপজেলার মহাজনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেনসন চাকমা (৩০) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। তিনি নীল কান্তি চাকমার ছেলে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে অসাবধানতাবশত এই দুর্ঘটনা ঘটে। লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

ভারী বর্ষণে কাপ্তাই উপজেলার ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বালুচরা এলাকায় পাহাড় ধসের পাশাপাশি বিশাল একটি গাছ উপড়ে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের ওপর পড়ে। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সড়ক সচল করতে উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিস কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যেকোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা এড়াতে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী সকলকে অনতিবিলম্বে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে ২৪ ঘণ্টা তৎপর রয়েছে।

 

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাইয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত: বিএনপির র‍্যালি ও আলোচনা সভা

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রশাসনের যৌথ অভিযান ও মাইকিং; ৯টি ওয়ার্ডে খোলা হয়েছে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র

টানা বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড রাঙামাটি: পাহাড় ধস ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ জনের মৃত্যু, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশিত: ১২:৪২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েকদিনের অবিরাম ভারী বর্ষণে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় এক ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস, গাছ উপড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পৃথক ঘটনায় দুইজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ইতিমধ্যে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে জেলা প্রশাসন, রাঙামাটি পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ যৌথ টিম মাঠে নেমেছে। তারা পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অত্যন্ত ঝুঁকিতে বসবাসরত মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য জোরদার মাইকিং ও আহ্বান জানাচ্ছে।

বাঘাইছড়ি পৌরসভার পশ্চিম লাইল্যাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে লক্ষী বিলাশ চাকমা (৬০) নামে এক ব্যক্তির করুণ মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্থানীয় দ্রোণাচার্য চাকমার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতের টানা বৃষ্টিতে তাদের বসতঘরের পাশের পাহাড়ের মাটি ধসে পড়েছিল। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে লক্ষী বিলাশ চাকমা সেই ধসে পড়া মাটি সরাতে গেলে ওপর থেকে পুনরায় গাছের গুঁড়িসহ বিশাল মাটির স্তূপ তার গায়ের ওপর ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

ঘটনার পর বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান এবং বাঘাইছড়ি থানার এসআই রিয়াজুল ইসলাম রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন এবং নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে লংগদু উপজেলার মহাজনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেনসন চাকমা (৩০) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। তিনি নীল কান্তি চাকমার ছেলে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে অসাবধানতাবশত এই দুর্ঘটনা ঘটে। লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

ভারী বর্ষণে কাপ্তাই উপজেলার ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বালুচরা এলাকায় পাহাড় ধসের পাশাপাশি বিশাল একটি গাছ উপড়ে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের ওপর পড়ে। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সড়ক সচল করতে উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিস কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যেকোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা এড়াতে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী সকলকে অনতিবিলম্বে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে ২৪ ঘণ্টা তৎপর রয়েছে।