শিরোনামঃ
Logo মহালছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ‘আশিকা’: খাদ্য, শিক্ষা ও আশ্রয়ণ উপকরণ পেয়ে মুখে হাসির ঝিলিক Logo মহালছড়িতে ৩৫০ কৃষকের ঘরে আশার আলো: বিনামূল্যে মিলল সার ও বীজ Logo সেতু ঝুঁকিতে ফেলে মাটি সাবাড়! হাতেনাতে ধরে জরিমানা আদায় করলো ভ্রাম্যমাণ আদালত Logo মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য: উদ্ধার বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও ভারতীয় রুপি Logo আইনি ব্যাখ্যার পর ৯৩% মেধা ও ৭% কোটায় দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দাবি Logo রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, বাবা-মা আটক Logo অল্পের জন্য বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেল হাটহাজারী-অক্সিজেন সড়ক, অলৌকিক বেঁচে যাওয়া Logo লংগদুতে চাঁদা তুলতে গিয়ে অস্ত্র ও টাকাসহ আটক জেএসএস ক্যাডার বিজিবিতে হস্তান্তর Logo কাউখালীতে পুলিশের চড়াও অভিযান: জিআর পরোয়ানাভুক্ত ২ আসামি গ্রেপ্তার Logo মাটিরাঙ্গায় দুই হোটেলে আশিয়ান অভিযান: পচা-বাসি খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দায়ে জরিমানা
রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিতে বিপৎসীমা পার; কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে, বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সাজেকে আটকা ৫০০ পর্যটক, রাঙামাটিতে ২১২ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত

টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। পাহাড়ধসের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো জেলা। ইতিমধ্যেই সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়েছেন পাঁচ শতাধিক পর্যটক। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রস্তুত করা হয়েছে ২১২টি আশ্রয়কেন্দ্র।

সাজেকে পর্যটকদের বন্দিদশা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা
পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-বাঘাইহাট-সাজেক সড়কের একাধিক নিচু এলাকা। ফলে বুধবার দুপুর থেকে সাজেকের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান জানিয়েছেন, সাজেকে বর্তমানে ৫ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের কটেজ ও রিসোর্টগুলোতে নিরাপদ অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে সাজেকসহ জেলার সব পর্যটন স্পটে ভ্রমণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।

টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটি পৌরসভাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রশাসন জেলার ১০টি উপজেলায় ২১২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। ইতিমধ্যেই ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আশ্রিতদের মাঝে শুকনো খাবার ও ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৭৫ মিলিমিটার এবং ঘণ্টায় গড় বৃষ্টি ৮.১০ মিলিমিটার পার হলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করে। অথচ, রাঙামাটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৮৭ মিলিমিটার, যেখানে প্রতি ঘণ্টায় গড় বৃষ্টির হার ছিল ১১.৯৫ মিলিমিটার। অর্থাৎ, আবহাওয়া ইতিমধ্যেই বিপৎসীমা পার করে গেছে। আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।

দুর্যোগের এই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতির মধ্যেও একমাত্র ইতিবাচক খবর হলো কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি। হ্রদের পানি বাড়ায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটই সচল করা হয়েছে, যেখান থেকে বর্তমানে ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবক দলগুলো মাঠে থেকে সার্বক্ষণিক উদ্ধার ও পর্যবেক্ষণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহালছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ‘আশিকা’: খাদ্য, শিক্ষা ও আশ্রয়ণ উপকরণ পেয়ে মুখে হাসির ঝিলিক

রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিতে বিপৎসীমা পার; কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে, বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সাজেকে আটকা ৫০০ পর্যটক, রাঙামাটিতে ২১২ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত

প্রকাশিত: ০১:১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। পাহাড়ধসের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো জেলা। ইতিমধ্যেই সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়েছেন পাঁচ শতাধিক পর্যটক। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রস্তুত করা হয়েছে ২১২টি আশ্রয়কেন্দ্র।

সাজেকে পর্যটকদের বন্দিদশা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা
পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-বাঘাইহাট-সাজেক সড়কের একাধিক নিচু এলাকা। ফলে বুধবার দুপুর থেকে সাজেকের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান জানিয়েছেন, সাজেকে বর্তমানে ৫ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের কটেজ ও রিসোর্টগুলোতে নিরাপদ অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে সাজেকসহ জেলার সব পর্যটন স্পটে ভ্রমণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।

টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটি পৌরসভাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রশাসন জেলার ১০টি উপজেলায় ২১২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। ইতিমধ্যেই ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আশ্রিতদের মাঝে শুকনো খাবার ও ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৭৫ মিলিমিটার এবং ঘণ্টায় গড় বৃষ্টি ৮.১০ মিলিমিটার পার হলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করে। অথচ, রাঙামাটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৮৭ মিলিমিটার, যেখানে প্রতি ঘণ্টায় গড় বৃষ্টির হার ছিল ১১.৯৫ মিলিমিটার। অর্থাৎ, আবহাওয়া ইতিমধ্যেই বিপৎসীমা পার করে গেছে। আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।

দুর্যোগের এই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতির মধ্যেও একমাত্র ইতিবাচক খবর হলো কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি। হ্রদের পানি বাড়ায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটই সচল করা হয়েছে, যেখান থেকে বর্তমানে ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবক দলগুলো মাঠে থেকে সার্বক্ষণিক উদ্ধার ও পর্যবেক্ষণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।