শিরোনামঃ
Logo মহালছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ‘আশিকা’: খাদ্য, শিক্ষা ও আশ্রয়ণ উপকরণ পেয়ে মুখে হাসির ঝিলিক Logo মহালছড়িতে ৩৫০ কৃষকের ঘরে আশার আলো: বিনামূল্যে মিলল সার ও বীজ Logo সেতু ঝুঁকিতে ফেলে মাটি সাবাড়! হাতেনাতে ধরে জরিমানা আদায় করলো ভ্রাম্যমাণ আদালত Logo মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য: উদ্ধার বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও ভারতীয় রুপি Logo আইনি ব্যাখ্যার পর ৯৩% মেধা ও ৭% কোটায় দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দাবি Logo রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, বাবা-মা আটক Logo অল্পের জন্য বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেল হাটহাজারী-অক্সিজেন সড়ক, অলৌকিক বেঁচে যাওয়া Logo লংগদুতে চাঁদা তুলতে গিয়ে অস্ত্র ও টাকাসহ আটক জেএসএস ক্যাডার বিজিবিতে হস্তান্তর Logo কাউখালীতে পুলিশের চড়াও অভিযান: জিআর পরোয়ানাভুক্ত ২ আসামি গ্রেপ্তার Logo মাটিরাঙ্গায় দুই হোটেলে আশিয়ান অভিযান: পচা-বাসি খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দায়ে জরিমানা
পাহাড় ধস ও ভারী বর্ষণে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন হালিমা বেগম: মহালছড়িতে দেবদূতের ভূমিকায় সেনাবাহিনী

প্রকৃতির রুদ্ররূপের মাঝে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে দেখা মিলল মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্তের। অবিরাম ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে যখন চারদিক প্লাবিত, ঠিক তখনই মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধার জীবনে ‘দেবদূত’ হয়ে হাজির হলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা হালিমা বেগম নিজের কাঁচা মাটির ঘরে বৃষ্টির মধ্যেই রান্না করছিলেন। হঠাৎ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরের একটি ভারী মাটির দেয়াল ধসে পড়ে তাঁর ওপর। দেয়ালের নিচে থাকা আসবাবপত্র ও ভাঙা কাঁচের স্তূপের নিচে চাপা পড়েন তিনি। স্থানীয়রা জানান, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাঁর একটি পা প্রায় দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর হালিমা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লেও টানা বৃষ্টির কারণে এলাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। ফলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া স্থানীয়দের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। হালিমা বেগমের জীবন যখন প্রদীপ নেভার মতো অবস্থা, ঠিক তখনই খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসেন মহালছড়ি জোনের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একদল সদস্য।

ঝড়-বৃষ্টি আর দুর্গম পথ মাড়িয়ে সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেন। সেনাবাহিনীর দক্ষ টিম তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জীবন বাঁচানোর ব্যবস্থা করে। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দুর্যোগপূর্ণ সড়ক পার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেনাসদস্যদের এই দ্রুত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণেই নিশ্চিত হয় হালিমা বেগমের জরুরি চিকিৎসা।

দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক ও সাহসী ভূমিকায় আবেগাপ্লুত স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী জানান, সেনাবাহিনী যদি সঠিক সময়ে এগিয়ে না আসত, তবে হয়তো বাঁচানো যেত না হালিমা বেগমকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জীবন রক্ষায় সেনাবাহিনীর এই ভূমিকা সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর স্বস্তি ও আস্থার সৃষ্টি করেছে।

এদিকে টানা বর্ষণে মহালছড়ি উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহালছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ‘আশিকা’: খাদ্য, শিক্ষা ও আশ্রয়ণ উপকরণ পেয়ে মুখে হাসির ঝিলিক

পাহাড় ধস ও ভারী বর্ষণে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন হালিমা বেগম: মহালছড়িতে দেবদূতের ভূমিকায় সেনাবাহিনী

প্রকাশিত: ০৩:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

প্রকৃতির রুদ্ররূপের মাঝে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে দেখা মিলল মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্তের। অবিরাম ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে যখন চারদিক প্লাবিত, ঠিক তখনই মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধার জীবনে ‘দেবদূত’ হয়ে হাজির হলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা হালিমা বেগম নিজের কাঁচা মাটির ঘরে বৃষ্টির মধ্যেই রান্না করছিলেন। হঠাৎ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরের একটি ভারী মাটির দেয়াল ধসে পড়ে তাঁর ওপর। দেয়ালের নিচে থাকা আসবাবপত্র ও ভাঙা কাঁচের স্তূপের নিচে চাপা পড়েন তিনি। স্থানীয়রা জানান, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাঁর একটি পা প্রায় দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর হালিমা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লেও টানা বৃষ্টির কারণে এলাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। ফলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া স্থানীয়দের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। হালিমা বেগমের জীবন যখন প্রদীপ নেভার মতো অবস্থা, ঠিক তখনই খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসেন মহালছড়ি জোনের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একদল সদস্য।

ঝড়-বৃষ্টি আর দুর্গম পথ মাড়িয়ে সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেন। সেনাবাহিনীর দক্ষ টিম তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জীবন বাঁচানোর ব্যবস্থা করে। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দুর্যোগপূর্ণ সড়ক পার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেনাসদস্যদের এই দ্রুত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণেই নিশ্চিত হয় হালিমা বেগমের জরুরি চিকিৎসা।

দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক ও সাহসী ভূমিকায় আবেগাপ্লুত স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী জানান, সেনাবাহিনী যদি সঠিক সময়ে এগিয়ে না আসত, তবে হয়তো বাঁচানো যেত না হালিমা বেগমকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জীবন রক্ষায় সেনাবাহিনীর এই ভূমিকা সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর স্বস্তি ও আস্থার সৃষ্টি করেছে।

এদিকে টানা বর্ষণে মহালছড়ি উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে।