টানা বর্ষণে ভেঙে গেছে রাস্তা। প্রতিবেশীর বিপদে হাত বাড়িয়েছিলেন ষাটোর্ধ্ব আব্দুল মালেক। নিজের বাড়ির বারান্দায় দিয়েছিলেন প্রতিবেশীর অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করার অনুমতি। কিন্তু সেই পরোপকারই যে তাঁর জীবনের শেষ দিন ডেকে আনবে, তা কে জানত!
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় অসতর্কভাবে রাখা অটোরিকশার চার্জারের মাল্টিপ্লাগ খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুল মালেক (৬০) নামে এক ব্যক্তির নির্মম মৃত্যু হয়েছে। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রী এবং বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নের শান্তিপুর এলাকায় এই মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল মালেক স্থানীয় মৃত লাল মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষার কারণে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় পাশের বাড়ির ফজর আলী নামে এক ব্যক্তি তাঁর অটোরিকশাটি আব্দুল মালেকের বাড়ির বারান্দায় চার্জ দিতেন। বৃহস্পতিবার রাতে চার্জ দেওয়া শেষে ফজর আলী মাল্টিপ্লাগটি জানালার গ্রিলে ঝুলিয়ে রেখে অটোরিকশা নিয়ে চলে যান।
শুক্রবার দুপুরে জানালার গ্রিল থেকে সেই মাল্টিপ্লাগটি সরাতে যান আব্দুল মালেক। বৃষ্টির কারণে গ্রিল ও প্লাগ আগে থেকেই বিদ্যুতায়িত হয়ে থাকায় স্পর্শ করার সাথে সাথেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ছটফট করতে থাকা স্বামীকে বাঁচাতে ছুটে আসেন স্ত্রী শাহেরা খাতুন (৫০)। তিনি স্পর্শ করতেই বিদ্যুতায়িত হন। এরপর মা ও বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে একইভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ছেলে শাহ আলম (৩৫)।
চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল মালেককে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহত মা ও ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, আহত শাহেরা খাতুনের শরীরের সিংহভাগ বিদ্যুতায়িত হওয়ায় তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যায় পুলিশ। মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহেদ উদ্দিন জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়েই পুলিশের একটি টিম হাসপাতালে গেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এক অসতর্কতা ও অবহেলায় মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারে নেমে এলো অন্ধকার। এলাকায় এখন বইছে শোকের ছায়া।



















