টানা ছয় দিনের অবিরাম বর্ষণ এবং ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির দুর্গম উপজেলা বরকলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢলের সাথে ভারী বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। এতে উপজেলার অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তিন শতাধিক ঘরবাড়ি, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভুষনছড়া, বড়কুড়াদিয়া, এরাবুনিয়া, কলাবুনিয়া, বামল্যান্ড ও কুকিছড়া এলাকার সিংহভাগ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। পায়ে হাঁটার রাস্তার একাধিক জায়গায় ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় এবং সড়ক ডুবে যাওয়ায় এলাকার অভ্যন্তরীণ চলাচলের একমাত্র অবলম্বন বাইক সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
কোথাও বাড়ির আঙিনা, কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবার কোথাও ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় মানুষ কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া বাসিন্দারা। তলিয়ে গেছে নলকূপ ও পানির উৎস, যার ফলে দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া, জেলা শহরের সাথে বরকলের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন নৌ-যান চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।
দুর্ভোগের কথা জানিয়ে ভূষনছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ময়না বেগম বলেন মাত্র কয়েকদিন আগেও যেখানে আমাদের গরু-ছাগল চরত, সেখানে এখন নৌকা চালিয়ে চলাচল করছে গ্রামের ছেলেরা। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বাড়ির চারপাশে পানি জমে আছে। অনেকের ঘরে পানি ঢুকে গেছে। চুলা ডুবে যাওয়ায় রান্না করা যাচ্ছে না। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে আমাদের।
ভুষনছড়া ইউনিয়নের একাধিক ভুক্তভোগী বাসিন্দা জানান, ঘরবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। এই মুহূর্তে বেঁচে থাকার জন্য সরকারি ও বেসরকারি জরুরি সহযোগিতা খুব প্রয়োজন।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির এই প্রবণতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন,
দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে গঠন করা হয়েছে বিশেষ মেডিকেল টিম। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় শুকনো খাবার ও সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



















