শিরোনামঃ
Logo কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎ Logo বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জমকালো গণসংবর্ধনা ‎ Logo কাপ্তাইয়ের ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চান প্রবাসী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ Logo দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে রোববারের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি একাদশ Logo হিল ভিডিপির উদ্যোগে দীঘিনালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo কাপ্তাইয়ে বরইছড়ি মুসলিম সমাজের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ‎ Logo রাঙামাটিতে ১৩তম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি ও কারিগরি বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ‎ Logo পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান—কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আলোচনা সভা Logo মহালছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে রেড ক্রিসেন্টের ফুড প্যাকেজ বিতরণ
৬ দিনের অতি ভারী বর্ষণে লণ্ডভণ্ড জনজীবন; বাঘাইছড়িতে ভয়াবহ বন্যা, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

পাহাড়ি ঢলে ভাসছে রাঙামাটি: ভেঙে পড়ল সেতু, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

টানা ছয় দিনের অতি ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। একদিকে ভয়াবহ বন্যা, অন্যদিকে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পুরো জেলা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে, আর হাজার হাজার মানুষ কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন।

দুর্যোগের মুখে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কে। শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রচণ্ড চাপে ব্রিজঘাটা সেতুর দক্ষিণ পাশের একটি পিলার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর শনিবার সকালে সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

শুধু তাই নয়, বাঘাইছড়ি–দীঘিনালা আঞ্চলিক সড়কের তিন কিলোমিটার এলাকায় পাহাড়ধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। লংগদু–দীঘিনালা সড়ক প্লাবিত হওয়ায় খাগড়াছড়ির সাথেও লংগদুর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে রাজস্থলী উপজেলার প্রধান সড়কে পাহাড়ধসের পর ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।

জেলায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়। পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে শুকনো ও রান্না করা খাবার দেওয়া হলেও দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছে।জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, রাঙামাটির প্রায় ১০৬টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

দুর্যোগ কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও দুর্গতদের মাঝে রান্না করা ও শুকনো খাবার বিতরণ করে যাচ্ছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে রাঙামাটির জন্য ৫০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটি জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে আগামী রোববার থেকে এই খাদ্যশস্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ শুরু হবে।প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে দ্রুত সাহায্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎

৬ দিনের অতি ভারী বর্ষণে লণ্ডভণ্ড জনজীবন; বাঘাইছড়িতে ভয়াবহ বন্যা, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

পাহাড়ি ঢলে ভাসছে রাঙামাটি: ভেঙে পড়ল সেতু, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

প্রকাশিত: ০২:২২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা ছয় দিনের অতি ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। একদিকে ভয়াবহ বন্যা, অন্যদিকে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পুরো জেলা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে, আর হাজার হাজার মানুষ কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন।

দুর্যোগের মুখে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কে। শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রচণ্ড চাপে ব্রিজঘাটা সেতুর দক্ষিণ পাশের একটি পিলার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর শনিবার সকালে সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

শুধু তাই নয়, বাঘাইছড়ি–দীঘিনালা আঞ্চলিক সড়কের তিন কিলোমিটার এলাকায় পাহাড়ধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। লংগদু–দীঘিনালা সড়ক প্লাবিত হওয়ায় খাগড়াছড়ির সাথেও লংগদুর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে রাজস্থলী উপজেলার প্রধান সড়কে পাহাড়ধসের পর ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।

জেলায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়। পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে শুকনো ও রান্না করা খাবার দেওয়া হলেও দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছে।জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, রাঙামাটির প্রায় ১০৬টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

দুর্যোগ কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও দুর্গতদের মাঝে রান্না করা ও শুকনো খাবার বিতরণ করে যাচ্ছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে রাঙামাটির জন্য ৫০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটি জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে আগামী রোববার থেকে এই খাদ্যশস্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ শুরু হবে।প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে দ্রুত সাহায্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া।