প্রকৃতির রুদ্ররূপ কেড়ে নিল এক পরিচিত মুখ। রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ দুদিন পর ব্যবসায়ী ও জামায়াত নেতা মো. বদিউল আলমের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ব্যবসায়ী মো. বদিউল আলম ফারুয়া বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে পাহাড়ি ঢলের আকস্মিক ও তীব্র স্রোতের মুখে পড়েন তিনি। চোখের পলকে স্রোতের তোড়ে ভেসে যান তিনি। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বদিউল আলম। গত দুদিন ধরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। অবশেষে গত ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টার দিকে গোয়াইনছড়ি এলাকা থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মো. বদিউল আলম ফারুয়া বাজারের একজন অত্যন্ত সুপরিচিত ও সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি সৎ ও নিষ্ঠার সাথে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফারুয়া ইউনিয়ন শাখার কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
মো. বদিউল আলমের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাঙামাটি জেলা আমির মো. আব্দুল আলীম। এক আবেগঘন শোকবার্তায় তিনি বলেন, মো. বদিউল আলম ছিলেন একজন সৎ, আমানতদার এবং নিবেদিতপ্রাণ ইসলামী আন্দোলনের কর্মী। পাহাড়ি ঢলের মতো এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক ঘটনায় তার চলে যাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন মরহুমকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন শোক সইবার শক্তি দেন।
একজন সজ্জন ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় বদিউল আলমের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তার এই অকাল মৃত্যুতে ফারুয়াসহ পুরো বিলাইছড়ি উপজেলায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে ভিড় জমান রাজনৈতিক সহকর্মী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।



















