টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এমন দুর্যোগপূর্ণ ও সংকটময় মুহূর্তে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে মহালছড়ি সেনা জোন। বন্যায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নদীপথে শুরু হয়েছে বিশেষ মানবিক কার্যক্রম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে চারদিক প্লাবিত হওয়ায় ঘর থেকে বের হতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় জরুরি চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ মেডিকেল টিম। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে নদীপথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করছেন।
মহালছড়ি সেনা জোনের মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ক্যাপ্টেন ডাঃ বোরহান উদ্দিন জানান, বন্যা পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ যাতে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আল জাবির আসিফ, পিএসসি-এর বিশেষ নির্দেশনায় এই ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “যেসব এলাকার মানুষ বন্যার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না, আমরা সরাসরি তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিচ্ছি। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, বন্যার এই কঠিন সময়ে চিকিৎসাসেবা হাতের নাগালে পেয়ে সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, যখন হাসপাতালে যাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ, তখন সেনাবাহিনী দেবদূতের মতো ঘরের দুয়ারে এসে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে, যা তাদের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সহায়।
দুর্যোগ মোকাবিলায় মহালছড়ি সেনা জোনের এমন সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।



















