শিরোনামঃ
Logo কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎ Logo বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জমকালো গণসংবর্ধনা ‎ Logo কাপ্তাইয়ের ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চান প্রবাসী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ Logo দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে রোববারের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি একাদশ Logo হিল ভিডিপির উদ্যোগে দীঘিনালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo কাপ্তাইয়ে বরইছড়ি মুসলিম সমাজের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ‎ Logo রাঙামাটিতে ১৩তম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি ও কারিগরি বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ‎ Logo পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান—কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আলোচনা সভা Logo মহালছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে রেড ক্রিসেন্টের ফুড প্যাকেজ বিতরণ
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ধসে পড়েছে সড়কের বড় অংশ; ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ, চরম দুর্ভোগে পর্যটক ও স্থানীয়রা

পাহাড় ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: আলীকদম-থানচি সড়কে যাতায়াত যেন মৃত্যুফাঁদ

টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে দেশের সবচেয়ে উঁচু ও অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সড়ক ‘আলীকদম-থানচি’। পাহাড় ধস এবং সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে যাওয়ার কারণে এই মুহূর্তে পুরো সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক চরম অচলাবস্থা। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করছে মানুষ।

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা এই সড়কটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও, সাম্প্রতিক দুর্যোগের পর এর রূপ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে: সড়কের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওপর থেকে বিশালাকার পাহাড় ধসে পড়েছে। ফলে রাস্তার ওপর জমে আছে টন টন মাটি ও বড় বড় পাথর।পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে অনেক জায়গায় ধস নেমেছে। কোনো কোনো স্থানে রাস্তার প্রায় অর্ধেক অংশই গিরিখাদে বিলীন হয়ে গেছে।সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয়রা পায়ে হেঁটে কিংবা মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করছেন।

সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আলীকদম ও থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকার মানুষ।উপজেলা সদরে চিকিৎসা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে যাওয়ার আর কোনো উপায় নেই। রাস্তা যেভাবে ভেঙেছে, তাতে যেকোনো সময় পুরো গাড়ি খাদে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকছে।

কাঁচামাল ও পাহাড়ি ফলমূল যথাসময়ে বাজারে পৌঁছাতে না পারায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা মাঝপথে আটকে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা ইতিমধ্যে ধসে পড়া মাটি অপসারণ এবং রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন। তবে এখনো বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, পাহাড়ের মাটি অতিরিক্ত পানি শোষণ করে নরম হয়ে যাওয়ায় নতুন করে ধসের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সড়কটি পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এবং নিরাপদ করতে বেশ কিছুদিন সময় লাগতে পারে। ততদিন পর্যন্ত এই সড়কে চলাচলের সময় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ধসে পড়েছে সড়কের বড় অংশ; ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ, চরম দুর্ভোগে পর্যটক ও স্থানীয়রা

পাহাড় ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: আলীকদম-থানচি সড়কে যাতায়াত যেন মৃত্যুফাঁদ

প্রকাশিত: ০৮:১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে দেশের সবচেয়ে উঁচু ও অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সড়ক ‘আলীকদম-থানচি’। পাহাড় ধস এবং সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে যাওয়ার কারণে এই মুহূর্তে পুরো সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক চরম অচলাবস্থা। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করছে মানুষ।

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা এই সড়কটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও, সাম্প্রতিক দুর্যোগের পর এর রূপ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে: সড়কের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওপর থেকে বিশালাকার পাহাড় ধসে পড়েছে। ফলে রাস্তার ওপর জমে আছে টন টন মাটি ও বড় বড় পাথর।পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে অনেক জায়গায় ধস নেমেছে। কোনো কোনো স্থানে রাস্তার প্রায় অর্ধেক অংশই গিরিখাদে বিলীন হয়ে গেছে।সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয়রা পায়ে হেঁটে কিংবা মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করছেন।

সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আলীকদম ও থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকার মানুষ।উপজেলা সদরে চিকিৎসা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে যাওয়ার আর কোনো উপায় নেই। রাস্তা যেভাবে ভেঙেছে, তাতে যেকোনো সময় পুরো গাড়ি খাদে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকছে।

কাঁচামাল ও পাহাড়ি ফলমূল যথাসময়ে বাজারে পৌঁছাতে না পারায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা মাঝপথে আটকে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা ইতিমধ্যে ধসে পড়া মাটি অপসারণ এবং রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন। তবে এখনো বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, পাহাড়ের মাটি অতিরিক্ত পানি শোষণ করে নরম হয়ে যাওয়ায় নতুন করে ধসের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সড়কটি পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এবং নিরাপদ করতে বেশ কিছুদিন সময় লাগতে পারে। ততদিন পর্যন্ত এই সড়কে চলাচলের সময় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।