শিরোনামঃ
Logo কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎ Logo বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জমকালো গণসংবর্ধনা ‎ Logo কাপ্তাইয়ের ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চান প্রবাসী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ Logo দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে রোববারের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি একাদশ Logo হিল ভিডিপির উদ্যোগে দীঘিনালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo কাপ্তাইয়ে বরইছড়ি মুসলিম সমাজের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ‎ Logo রাঙামাটিতে ১৩তম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি ও কারিগরি বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ‎ Logo পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান—কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আলোচনা সভা Logo মহালছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে রেড ক্রিসেন্টের ফুড প্যাকেজ বিতরণ
বাঘাইছড়িতে কমছে পানি, ৫০ আশ্রয়কেন্দ্রে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ; সেনা ও প্রশাসনের যৌথ মানবিক সহায়তা অব্যাহত

পাহাড়ধস ও বন্যায় বিপর্যস্ত রাঙামাটি: ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির ধীর উন্নতি হতে শুরু করেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঘাইছড়ি উপজেলায় পানি কমতে শুরু করলেও জেলার সার্বিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এখনো পাহাড়ধস ও বন্যার আশঙ্কায় জেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ৩ হাজার ৬৩৭ জন দুর্গত মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন। রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (এমপি) রাঙামাটি পৌর এলাকার ওমদা মিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুল আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আশ্রিত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং পুনর্বাসনের জোরালো আশ্বাস দেন।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাবেন। যাদের বাড়িঘর পাহাড়ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট দ্রুত মেরামতের সব ধরনের ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় বর্তমানে ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। উপজেলাভিত্তিক আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো: উপজেলা/এলাকা আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা
বাঘাইছড়ি পৌরসভা ও উপজেলা ২২টি, রাঙামাটি পৌরসভা ও সদর ৯টি, বিলাইছড়ি ও বরকল ৪টি করে (মোট ৮টি), রাজস্থলী ৩টি, কাউখালী ২টি, জুরাছড়ি ও নানিয়ারচর ১টি করে (মোট ২টি)।

দুর্গত এলাকায় সরকারি-বেসরকারি ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানের নির্দেশনায় বরকল উপজেলার সীমান্তবর্তী খুব্বাং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। ৩ নম্বর আইমাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুবিমল চাকমার উপস্থিতিতে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, দুর্গম লংগদু উপজেলার উলুছড়ি আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন লংগদু জোনের সেনাসদস্যরা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে দুর্গত পরিবারগুলোর মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেছেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পানি কমতে শুরু করলেও পানিবন্দি ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎

বাঘাইছড়িতে কমছে পানি, ৫০ আশ্রয়কেন্দ্রে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ; সেনা ও প্রশাসনের যৌথ মানবিক সহায়তা অব্যাহত

পাহাড়ধস ও বন্যায় বিপর্যস্ত রাঙামাটি: ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ০৩:০৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির ধীর উন্নতি হতে শুরু করেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঘাইছড়ি উপজেলায় পানি কমতে শুরু করলেও জেলার সার্বিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এখনো পাহাড়ধস ও বন্যার আশঙ্কায় জেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ৩ হাজার ৬৩৭ জন দুর্গত মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন। রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (এমপি) রাঙামাটি পৌর এলাকার ওমদা মিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুল আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আশ্রিত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং পুনর্বাসনের জোরালো আশ্বাস দেন।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাবেন। যাদের বাড়িঘর পাহাড়ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট দ্রুত মেরামতের সব ধরনের ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় বর্তমানে ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। উপজেলাভিত্তিক আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো: উপজেলা/এলাকা আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা
বাঘাইছড়ি পৌরসভা ও উপজেলা ২২টি, রাঙামাটি পৌরসভা ও সদর ৯টি, বিলাইছড়ি ও বরকল ৪টি করে (মোট ৮টি), রাজস্থলী ৩টি, কাউখালী ২টি, জুরাছড়ি ও নানিয়ারচর ১টি করে (মোট ২টি)।

দুর্গত এলাকায় সরকারি-বেসরকারি ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানের নির্দেশনায় বরকল উপজেলার সীমান্তবর্তী খুব্বাং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। ৩ নম্বর আইমাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুবিমল চাকমার উপস্থিতিতে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, দুর্গম লংগদু উপজেলার উলুছড়ি আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন লংগদু জোনের সেনাসদস্যরা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে দুর্গত পরিবারগুলোর মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেছেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পানি কমতে শুরু করলেও পানিবন্দি ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।