টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির ধীর উন্নতি হতে শুরু করেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঘাইছড়ি উপজেলায় পানি কমতে শুরু করলেও জেলার সার্বিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এখনো পাহাড়ধস ও বন্যার আশঙ্কায় জেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ৩ হাজার ৬৩৭ জন দুর্গত মানুষ।
এমন পরিস্থিতিতে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন। রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (এমপি) রাঙামাটি পৌর এলাকার ওমদা মিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুল আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আশ্রিত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং পুনর্বাসনের জোরালো আশ্বাস দেন।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাবেন। যাদের বাড়িঘর পাহাড়ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট দ্রুত মেরামতের সব ধরনের ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে।
জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় বর্তমানে ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। উপজেলাভিত্তিক আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো: উপজেলা/এলাকা আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা
বাঘাইছড়ি পৌরসভা ও উপজেলা ২২টি, রাঙামাটি পৌরসভা ও সদর ৯টি, বিলাইছড়ি ও বরকল ৪টি করে (মোট ৮টি), রাজস্থলী ৩টি, কাউখালী ২টি, জুরাছড়ি ও নানিয়ারচর ১টি করে (মোট ২টি)।
দুর্গত এলাকায় সরকারি-বেসরকারি ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানের নির্দেশনায় বরকল উপজেলার সীমান্তবর্তী খুব্বাং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। ৩ নম্বর আইমাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুবিমল চাকমার উপস্থিতিতে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, দুর্গম লংগদু উপজেলার উলুছড়ি আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন লংগদু জোনের সেনাসদস্যরা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে দুর্গত পরিবারগুলোর মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেছেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পানি কমতে শুরু করলেও পানিবন্দি ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।



















