পার্বত্য রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে এক আদর্শবান ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ভাসান্যাদম গাউছিয়া তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসা, হেফজ ও এতিমখানার বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী, দাখিল পরীক্ষায় এ+ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা, বৃক্ষরোপণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ৫নং ভাসান্যাদম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল কাদের। মাদরাসার সুপার ও পরিচালনা কমিটির সম্পাদক মাওলানা মো. ওমর ফারুক আল-কাদেরীর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার আলো ছড়াতে ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. মিনহাজ মুরশীদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, তাদের নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং মাদরাসার আধুনিকায়নে পার্বত্য জেলা পরিষদ সব সময় সচেষ্ট থাকবে।
প্রধান আলোচক ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটির উপ-পরিচালক মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ পরিদর্শক হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজিবির লংগদুস্থ স্থানীয় ক্যাম্প কমান্ডার শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল ও ইতিবাচক জীবন গঠনে উৎসাহ দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র মো. রবিউল আলম, সাবেক কমিশনার মো. শহিদ চৌধুরী, সাংবাদিক মো. ইয়াছিন রানা সোহেলসহ অন্যান্য বক্তারা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও এতিমখানার সার্বিক কল্যাণে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (এ+) অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে বিশেষ সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। একই সাথে বিভিন্ন শ্রেণির মেধাবী ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে মাদরাসা প্রাঙ্গণে পরিচালনা পর্ষদ ও অতিথিবৃন্দকে সাথে নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় সামাজিক-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।



















